
এস এম জসিম
বিশেষ প্রতিনিধি
আমাদের সমাজে এমন অনেক অসহায় ও নিঃস্ব মানুষ রয়েছেন, যারা সাহরি ও ইফতারে সামান্য খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খান। বছরের অন্য সময় কোনোভাবে চললেও বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে তারা আরও দুর্ভোগ ও দুঃস্থতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই সামাজিক লজ্জার কারণে কারও কাছে সাহায্য চাইতেও পারেন না।
এই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে দুস্থ রোজাদারদের পাশে দাঁড়াতে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন প্রতিবছরের মতো এবারও দেশব্যাপী পরিচালনা করছে ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ— “এক টাকায় রোজার বাজার”। চট্টগ্রামে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় প্রতিদিন হাজারো ছিন্নমূল রোজাদারদের সাহরি ও ইফতারের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য এই “এক টাকায় বাজার”-এর আয়োজন করা হয়েছে।
আজ সকাল ১১টায় নগরীর বিপ্লব উদ্যানে এই বাজারের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মেয়র বলেন,
“অসহায় মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া সামর্থ্যবান প্রতিটি মানুষের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। বিদ্যানন্দের আজকের এই ‘এক টাকায় রোজার বাজারে’ এসে আমার মনে হচ্ছে যেন শায়েস্তা খাঁর আমল ফিরে এসেছে। এখানে অভাবী মানুষ মাত্র ১ টাকা মূল্য পরিশোধ করে হাজার টাকার অধিক পণ্য বাছাই করার স্বাধীনতা পাচ্ছেন। এই উদ্যোগটি সত্যিই অভাবনীয় এবং প্রশংসার দাবি রাখে। বিদ্যানন্দকে অনুসরণ করে সমাজের অন্যান্য বিত্তবানরা যদি মানুষের পাশে এগিয়ে আসেন, তাহলে এই রমজানে মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নিম্নআয়ের মানুষজন উৎসবমুখর পরিবেশে নিজেদের প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য সংগ্রহ করছেন। তাদের চোখেমুখে ছিল আনন্দের ঝিলিক। কারণ, এটি কোনো ভিক্ষা নয়—মাত্র ১ টাকা দিয়ে তারা নিজের পছন্দ অনুযায়ী প্রায় হাজার টাকার বাজার করার সুযোগ পাচ্ছেন।
এই বাজারে রয়েছে চাল, ছোলা, ডাল, তেল, ডিমসহ মোট ১৬ ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য—যেন একটি পরিপূর্ণ সুপারশপ। এখানে ১ কেজি চাল পাওয়া যাচ্ছে ১ টাকায়, ১ কেজি ছোলা ২ টাকায়, ১ ডজন ডিম ১.৫ টাকায়, ১ লিটার তেল ৩ টাকায় এবং ১টি মুরগি ৪ টাকায়। যদিও প্রত্যেক উপকারভোগী মাত্র ১ টাকার বিনিময়ে ১০টি টোকেন মানি পান, যা ব্যবহার করে তারা বিভিন্ন কাউন্টারে গিয়ে পণ্য সংগ্রহ করতে পারেন। বাজার ব্যবস্থাপনা ও নিয়ম বুঝিয়ে দিতে পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব পালন করছেন।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের গভর্নিং বডির পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন,
“রমজান মাসকে বলা হয় সহমর্মিতার মাস। এক মাস রোজা পালনের মাধ্যমে রোজাদার ক্ষুধার্ত মানুষের কষ্ট উপলব্ধি করতে সক্ষম হন। এর ফলে আর্ত-পীড়িত মানুষের প্রতি সহানুভূতি জাগে। এই সহমর্মিতাকে কাজে লাগিয়ে তাদের কষ্ট লাঘবে ভূমিকা রাখাই রোজাদারের দায়িত্ব। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন ও এর স্বেচ্ছাসেবী দাতারা বছরের পর বছর ধরে সেই কাজটিই করে যাচ্ছে। আজ এই বাজারের মাধ্যমে ৫০০-এরও বেশি দরিদ্র পরিবার মাত্র ১ টাকায় কমপক্ষে ১ হাজার টাকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে পারবে, যা এই দুঃসময়ে তাদের কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, মেয়রের একান্ত সচিব জিয়া উদ্দিন, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।