শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৪৫ অপরাহ্ন
ঘোষনা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদগঞ্জে ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক গণসংযোগ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হৃদরোগজনিত সমস্যায় সাবেক মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা হাসপাতালে ভর্তি চুয়াডাঙ্গা–২ আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় বক্তব্য রাখলেন এমপি প্রার্থী মোঃ রুহুল আমিন গোমস্তাপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম বাইরুল ইসলাম এর প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত। ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির আনন্দ মিছিল ঝিনাইদহে মোবারকগঞ্জ চিনিকলে ৫৯তম আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন বগুড়ায় বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও মানবতার ফেরিওয়ালা খান সেলিম রহমানের ৪৮তম জন্মদিন উদযাপন ঝিনাইদহে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত সড়ক দুর্ঘটনায় ঝাউদিয়ার দুই মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত ইবি, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক ঝিনাইদহে অজ্ঞাতনামা এক নারী অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার, পরিচয় জানতে পুলিশ-জনতার সহায়তা প্রয়োজন ঝিনাইদহে স্বপ্নচূড়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ ঝিনাইদহে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু: বিদ্যুৎস্পৃষ্ট নাকি অন্য কিছু? খান সেলিম রহমান এর শুভ জন্মদিন উপলক্ষে মাতৃজগত পরিবারের উদ্যোগে জন্মদিনে আনন্দ, শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছার বর্ণিল সমারোহ আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত একদন্তে আব্দুল কাদের গার্লস স্কুলে ১১ শিক্ষার্থীর মাঝে পবিত্র কোরআন বিতরণ ঝিনাইদহের সাগান্না ইউনিয়নে সেনাবাহিনীর অভিযান অবৈধভাবে সার মজুদ রাখায় ব্যবসায়ী কে জরিমানা তানোরে দুই বছরের সাজিদের করুণ মৃত্যুতে স্তব্ধ পুরো গ্রাম ফরিদগঞ্জে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যাপক গণসংযোগ সাংবাদিকদের সাথে পুলিশ সুপার এর মতবিনিময়: ময়মনসিংহে হিজলা সিন্ডিকেটের ভয়ঙ্কর দৌরাত্ম্য বরযাত্রীর গাড়ি টার্গেট, নারী–শিশুকে হেনস্থায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক বাড়ছে

আগামীকাল দ্বিতীয় কলংকজনক অধ্যায় ৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবস

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২ নভেম্বর, ২০২২
  • ২৪৫ বার পঠিত

কে এম নাছির উদ্দীন সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টারঃ

আগামীকাল ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস। ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দ্বিতীয় কলংকজনক অধ্যায় এই দিনটি।

১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকান্ডের পর তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী ও চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এএইচএম কামারুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন মনসুর আলীকে এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এর আগে ১৫ আগস্টের পর এই চার জাতীয় নেতাকে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

 

জাতি আগামীকাল মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী ও চার জাতীয় নেতাকে যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বর্বরোচিত এই কালো অধ্যায়টি স্মরণ করবে। আওয়ামী লীগ সহ বিভিন্ন দল ও সংগঠনের উদ্যোগে সারাদেশে পালিত হবে শোকাবহ এই দিনটি।

 

বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রী সভার সবচাইতে ঘৃণিত বিশ্বাসঘাতক সদস্য হিসেবে পরিচিত তৎকালীন স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদ এবং বঙ্গবন্ধুর দুই খুনি কর্নেল (বহিস্কৃত) সৈয়দ ফারুক রহমান এবং লে. কর্নেল (বহিস্কৃত) খন্দকার আব্দুর রশীদ জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যার এ পরিকল্পনা করেন। এ কাজের জন্য তারা আগে ভাগে একটি ঘাতক দলও গঠন করে। এ দলের প্রধান ছিল রিসালদার মুসলেহ উদ্দিন। সে ছিল ফারুকের সবচেয়ে আস্থাভাজন। ১৫ আগস্ট শেখ মনির বাসভবনে যে ঘাতক দলটি হত্যাযজ্ঞ চালায় সেই দলটির নেতৃত্ব দিয়েছিল মুসলেহ উদ্দিন।

 

প্রখ্যাত সাংবাদিক অ্যান্থ’নী মাসকারেনহাস তার ‘বাংলাদেশ এ লিগ্যাসি অব ব্লাড’ গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পরপরেই জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনাটি এমনভাবে নেয়া হয়েছিল যাতে পাল্টা অভ্যুথান ঘটার সাথে সাথে আপনা আপনি এটি কার্যকর হয়। আর এ কাজের জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি ঘাতক দলও গঠন করা হয়। এই ঘাতক দলের প্রতি নির্দেশ ছিল পাল্টা অভ্যুথান ঘটার সাথে সাথে কোন নির্দেশের অপেক্ষায় না থেকে কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে তারা জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করবে। ’৭৫-এর ৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফ পাল্টা অভ্যুথান ঘটানোর পরেই কেন্দ্রীয় কারাগারে এই জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়।

 

বঙ্গবন্ধুর আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার পর পরই পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে জাতির জনককে তাঁর ঐতিহাসিক ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে। পরে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময় সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের সমধিক পরিচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দিন আহমেদ একটি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কোটি কোটি বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বঙ্গবন্ধুর অপর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এএইচএম কামারুজ্জামান ও ক্যাপ্টেন মনসুর আলী আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে নীতি ও কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

 

৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্য এবং ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিহত জাতীয় চার নেতা হত্যার তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল লন্ডনে। এসব হত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন ও বিচারের প্রক্রিয়াকে যে সমস্ত কারণ বাধাগ্রস্ত করেছে সেগুলোর তদন্ত করার জন্য ১৯৮০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এই তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। তবে সেই সময়ে বাংলাদেশ সরকারের অসহযোগিতার কারণে এবং কমিশনের একজন সদস্যকে ভিসা প্রদান না করায় এ উদ্যোগটি সফল হতে পারেনি। তখন বাংলাদেশের সরকার প্রধান ছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।

 

অধ্যাপক আবু সাইয়িদের ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড ফ্যাক্টস এন্ড ডুকমেন্টস’ গ্রন্থে এই কমিশন গঠনের বর্ণনা রয়েছে। এতে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা, মনসুর আলীর পুত্র মোহাম্মদ সেলিম এবং সৈয়দ নজরুল ইসলামের পুত্র সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের আবেদনক্রমে স্যার থমাস উইলিয়ামস, কিউ. সি. এমপি’র নেতৃত্বে এই কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়। বাংলাদেশ ও বিদেশে অনুষ্ঠিত জনসভাসমূহে এ আবেদনটি ব্যাপকভাবে সমর্থিত হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
এই পত্রিকার সকল সংবাদ, ছবি ও ভিডিও স্বত্ত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ দৈনিক মাতৃজগত    
Developed By Bangla Webs
banglawebs999991