বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ১২:২২ পূর্বাহ্ন
ঘোষনা
রায়গঞ্জে সাবেক ইউ পি সদস্য মোহাম্মদ আলীর নেতিত্বে ফুলজোড় নদীতে অবৈধভাবে বাংলা ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তলনের মহাৎসব গাইবান্ধা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কোচাশহর ইউনিয়নে রংমিশ্রিত ক্যামিক্যাল দিয়ে তৈরি করছে শিশু খাদ্য গোমস্তাপুরে। বিদ্যালয়ের টিনের চাল উড়িয়ে নিয়েছে। নাটোরের সিংড়ায় পুকুর খনন কালে প্রাচীন মূর্তি উদ্ধার! বিয়ের দাবিতে কলেজ ছাত্রীর অনশনে ১১দিন পর হাত পা বেঁধে ফেলে রেখে যায় পুলিশ সদস্যের বাবাসহ কয়েকজ রাজশাহী পুলিশ হাসপাতাল টেলিমেডিসিন সেবা চালু করেছে শেখ হাসিনা দেশে ফিরেছিলেন তাই উন্নয়নের শিখরে বাংলাদেশ নওগাঁর নিয়ামতপুরে সমাজ সেবা দপ্তরের সেমিনার সাপাহা‌রে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পা‌লিত রাজশাহী কর্তৃক হেরোইন ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ দুই কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ইট ভাটার ট্রাক-ট্রলিতে বেহাল অবস্থায় আমতলীর গ্রামীন সড়ক

সাইফুল্লাহ নাসির
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৫ মার্চ, ২০২২
  • ৪০ বার পঠিত

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ বরগুনার আমতলী উপজেলায় নিয়মনীতি উপেক্ষা করে যেখানে সেখানে গড়ে উঠেছে বৈধ ও অবৈধ ইট ভাটা। এ সকল ইট ভাটায় ইট তৈরীতে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি মাটি ও ইট বোঝাই করে ট্রাক পরিবহনের কারণে বেহাল হয়ে পড়ছে উপজেলার বেশির ভাগ গ্রামীণ কাঁচা ও পাকা সড়ক। চলতি মৌসুমে তেমন একটা ঝড় বৃষ্টি না থাকায় বছর ঝুড়ে ইট ভাটার ট্রাক ও ট্রলি চলাচলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গ্রামীর কাঁচা পাকা সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আবার সামান্য বৃষ্টি হলে সড়কগুলো কদমাক্ত হয়ে বিপদজনক সড়কে পরিণত হয়।

উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৩ ক্যাটাগরিতে আমতলী উপজেলায় প্রায় ২২৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক রয়েছে। এরমধ্যে উপজেলা সড়ক ৭৫ কিলোমিটার, ইউনিয়ন সড়ক ১৫০ কিলোমিটার, ক ও খ শ্রেণির গ্রামীণ সড়ক রয়েছে ৪৫০ কিলোমিটার। এছাড়া আমতলী উপজেলায় কাঁচা রাস্তা রয়েছে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার।

সরেজমিনে বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের মহিষকাটা বাসষ্ট্যান্ড থেকে হাজার টাকা বাঁধ হয়ে কুকুয়া হাট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটারের একটি পাকা (কার্পেটিং) গ্রামীণ সড়ক রয়েছে। এই সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে ৫টি ইটভাটা। ওই গ্রামীণ পাকা সড়কে ১০ টনের অধিক ওজনের মালবাহী ট্রাক ও ট্রলি চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও ওই সকল ইট ভাটায় ১৫ থেকে ২০ টনের অধিক ট্রাক ওট্রলি দিয়ে প্রতিদিন ইট ভাটাগুলোতে মাটি এবং ইট পরিবহন করা হচ্ছে। ফলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কটি সম্পূর্ণ খানাখন্দ তৈরী হয়ে যান ভারী ও হালকা যান চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
গুলিশাখালী ইউনিয়নের খেকুয়ানী- গুলিশাখালী এবং মহিষকাটা- গোজখালী সড়কে প্রতিদিন ভারি ট্রাক ও ট্রলি বোঝাই করে ইট ভাটাগুলোতে মাটি ও ইট বহন করায় বর্তমানে সড়ক দুটি বেহাল দশায় পরিণত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়ক দুটি শুস্ক মৌসুমে ধূলোময় ও বর্ষার মৌসুমে কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে।
আমতলী একে স্কুল ও তালুকদার বাজার ভায়া হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সড়কটি দু’পাশে ৩টি ইটভাটা রয়েছে। ওই সড়কটি দিয়ে ওই সকল ইট ভাটায় ট্রাক ও ট্রলি দিয়ে অধিক পরিমাণে ইট ও মাটি পরিবহন করায় ওই সড়কটিতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে এখন যান চলাচলে সম্পূর্ন অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।
এছাড়া উপজেলার খুড়িয়ার খেয়াঘাট- নোমরহাট সড়ক, খুড়িয়ার খেয়াঘাট- তারিকাটা, কলংক- সোনাউঠা, ঘটখালী- তালুকদার বাজার, গাজীপুর বন্দর- তালুকদার বাজার, কেওয়াবুনিয়া- রায়বালা, পৌরসভার বটতলা- চাওড়া কাউনিয়া, ছুড়িকাটা- মহিষডাঙ্গা, গোজখালী- গুলিশাখালী, কুকুয়া হাট- সুবন্ধি, গোপখালী- পচাকোড়ালিয়া-সুইজসহ, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামীন কাঁচা ও পাকা সড়কগুলো ধ্বংসের পথে।

বর্তমানে উপজেলার প্রায় প্রতিটি সকল সড়ক দিয়ে ইট ভাটার ভারি ট্রাক ও ট্রলিগুলো চলাচল করায় প্রতিটি সড়কেই ছোট বড় খানাখন্দে পরিণত হয়েছে এবং সড়কে থাকা পুরাতন সেতুগুলোও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ওই সেতু ও সড়ক দিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে ও যেতে হচ্ছে। একই সাথে পাকা সড়কের পাশাপাশি ক্ষতি হচ্ছে গ্রামীণ কাঁচা রাস্তারও।
উপজেলা প্রশাসনের থেকে উপজেলার সর্বত্র মাইকিং করে এবং প্রভাবশালী ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে না পাড়ায় গ্রামীন কাঁচা ও পাকা সড়কগুলো দিয়ে চলাচলরত ইট ভাটার ভারী ট্রাক ও ট্রলিগুলো বন্ধ করা যাচ্ছে না। এতে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে কোটি কোটি টাকায় নির্মিত গ্রামীণ সড়কগুলো।

হাজারটাকা বাঁধ এলাকার ভ্যানচালক মোঃ খালেক মিয়া জানায়, পাকা সড়ক কইরা লাভ কী? ইটভাটার মাটি ও ইট টানার কারনে ট্রাক ও ট্রলিতে সড়কটা শেষ কইরা দিছে। ধুলায় আর ভাঙ্গার কারণে মোরা ভ্যানে মালামাল পরিবহন করতে পারি না।
খুড়িয়ার খেয়াঘাট সড়কের মাহেন্দ্রা চালক খবির মিয়া বলেন, ইটভাটার ট্রাকে মাটি ও ইট টানার কারনে ট্রাকের চাকায় ওই সড়কের রাস্তা উঠে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।ওই সড়ক দিয়ে আমাদের গাড়ী চালাতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

গুলিশাখালী বাজারের ব্যবসায়ী কামাল সওদাগর বলেন, ইটভাটার ট্রাক ও ট্রলিতে অত্র ইউনিয়নের সকল কাচা ও পাকা রাস্তাগুলোতে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে বেহাল দশায় পরিণত করেছে। সামনে বর্ষা মৌশুমে ওই সকল রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে মানুষের ভোগান্তির কোন শেষ থাকবেনা।

উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কেউ কারও কথা শোনে না। সড়কে ষ্টীলের ব্যারিকেড তৈরি করে প্রতিবন্ধকতা তৈরি না করা হলে গ্রামীণ সড়ক টেকানো যাবে না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ মুঠোফোনে বলেন, গ্রামীন সড়কে বেপরোয়া ওই যানবাহন গুলো বন্ধে শীঘ্রই অভিযান চালানো হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..
এই পত্রিকার সকল সংবাদ, ছবি ও ভিডিও স্বত্ত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ দৈনিক মাতৃজগত    
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ Bangla Webs
banglawebs999991