বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১২:২১ পূর্বাহ্ন
ঘোষনা
অনিয়ম ও দুর্নীতির শীর্ষ পর্যায়ে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারা কর্মকর্তারা ওরা বলে সংবিধান ছুড়ে ফেলে দিবে সাংগঠনিক সম্পাদক, আফজাল হোসেন মির্জাগঞ্জের বৈদ্যপাশায় ইছালে সওয়াব ও মাহফিল অনুষ্ঠিত। গাইবান্ধা শহরের ‘ছালমা মঞ্জিল’ নামের মেস থেকে গোবিন্দগঞ্জ নিজ বাড়িতে যাবার পথে দুই কলেজ ছাত্রী নিখোঁজের অভিযোগ উঠেছে।  গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নে টিসিবির ডিলারের বিরুদ্ধে কার্ড ছাড়া পণ্য বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের সহযোগিতায় হারিয়ে জাওয়া সন্তান খুঁজে পেলো পরিবার। সাতক্ষীরায় ১৮টি স্বর্ণের বারসহ ১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ পুলিশের তদন্ত রিপোর্ট পুলিশের পক্ষেই থানা হেফাজতে নির্যাতনে নয়,আসামির মৃত্যু সড়ক দূর্ঘটনায়! সাপাহারে তাঁতইর বাখরপুর কওমী হাফেজিয়া সালাফিয়্যাহ মাদ্রাসায় হিফয সমাপ্তকারী প্রথম শিক্ষার্থীর বিদায় অনুষ্ঠিত তানোরে আট বিঘা জমির ফসল নষ্ট করে দিয়েছে -দুর্বৃত্তরা,

একজন জাভেদ নাসিম,রক্তদানেই যার নেশা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২২
  • ২০২ বার পঠিত

স্বদেশের উপকারে নেই যার মন, কে বলে মানুষ তারে পশু সেই জন’ কিংবা ‘সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে মোরা পরের তরে’- এই পঙ্‌ক্তিগুলো হৃদয়ে গেঁথে নিয়েছেন জাভেদ নাসিম। স্বেচ্ছাসেবি হিসাবে রক্তদান ও রক্তদান করতে মানুষ কে সচেতন করা তিনি কর্তব্য বলে মনে করেন। এ জন্য নিয়ম মেনে রক্ত দান করে যাচ্ছেন নিয়মিত। ১৯৮৬ সাল থেকেই হাসিমুখে কাজটি করছেন তিনি। এর বাইরেও সমাজকর্মী হিসেবে তার আলাদা পরিচিতি রয়েছে।

জাভেদ নাসিম প্রসঙ্গে তার পরিচিতজনেরা বলেন তিনিই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশিবার রক্ত দেওয়া একজন স্বেচ্ছাসেবি । ১৯৮৬ সাল থেকে তিনি রক্তদান করছেন। এ পর্যন্ত ১৮৬ বার রক্ত দিয়েছেন। এর মধ্যে ১২৬ বার ফুল ব্যাগ এবং ৫৭ বার শিশুদের রক্ত দিয়েছেন। তিনবার প্লাটিলেট দিয়েছেন। শিশুদের রক্ত দিলে বড়দের দেওয়ার জন্য সময় নিয়েছেন তিন মাস, অন্যদিকে বড়দের রক্ত দেওয়ার পরও এ নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করেছেন তিনি।

জাভেদ নাসিম ১৯৬৮ সালের ২৭ অক্টোবর কুমিল্লা জেলার সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বেড়ে উঠেছেন ঢাকায়। জুরাইনে কেটেছে বাল্যকাল। ঢাকার নারিন্দা সরকারি হাই স্কুল থেকে এসএসসির পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অব আর্টস সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি বেসরকারি চাকরিজীবী, পাশাপাশি সামলাচ্ছেন এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ব্যবসা।

জাভেদ নাসিম যখন যুবক তখনও দেশে মুঠোফোন আসেনি। ফেইসবুক তো ভাবাই যায় না। বাংলাদেশ টেলিভিশনে তিনি দেখতে পেতেন মুমূর্ষু রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজন। সেই বিজ্ঞাপন নাড়া দিতো তার নরম হৃদয়ে। সেখান থেকেই অনুপ্রাণিত হন তিনি। কোনো মুমূর্ষু রোগীকে বিনামূল্যে রক্ত দেওয়ার পর যে হাসি তার ঠোঁটে দেখতে পান, সেই হাসিই তার অনুপ্রেরণা। সেই প্রশান্তি বুকে নিয়ে তিনি এখনো কাজ করছেন।

রক্ত দিতে ও রক্তদান এ মানুষকে সচেতন করতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছুটে গিয়েছেন জাভেদ নাসিম। রক্ত দিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি আবেগাপ্লুত হন গাইবান্ধা গিয়ে। এক শিশুকে রক্ত দেওয়ার জন্য সেখানে হাজির ছিলেন ১৪ জন রক্তদাতা। ১৪ জনের মধ্যে থেকে সেই শিশু নাসিমকে বেছে নেন। রক্ত দেওয়ার পর সেই শিশু তাকে শুভেচ্ছাও জানায়। দিনটি ছিল বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এই স্মৃতি তার জীবনের অন্যতম ভালোবাসার স্মৃতি বলে জানান তিনি।

দেশের বিভিন্ন সংগঠন থেকে নাসিম রক্তদাতা সম্মাননা পেয়েছেন। দেশের রক্তদাতা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোতে তিনি ‘দাদুভাই’ নামে পরিচিত। এ ছাড়াও ২০১৯ সালে বাংলাদেশ পুলিশ কুমিল্লা জেলা থেকে পেয়েছেন আইজিপি সম্মাননা।
জাভেদ নাসিম মরণোত্তর চক্ষুদান এ রেজিঃ করছেন।জাভেদ নাসিম বলেন, আমি মানুষকে রক্ত দিয়ে আনন্দ পাই। যেখানে যখন রক্তের প্রয়োজন হয় আমি ছুটে যাই। সারাজীবন আমি রক্ত দিয়ে যেতে চাই, আল্লাহ যতদিন ভালো রাখবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..
এই পত্রিকার সকল সংবাদ, ছবি ও ভিডিও স্বত্ত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ দৈনিক মাতৃজগত    
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ Bangla Webs
banglawebs999991