
মো:মিল্টন হোসেন বিশেষ প্রতিনিধি ঝিনাইদহ:- ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর এলাকার শিবনগরে অবস্থিত মকসেদ আলী ব্রিকসের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত ও অভিযানিক দল চতুর্থবারের মতো অভিযান পরিচালনা করেছে। মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) দিনভর পরিচালিত এ অভিযানে ইটভাটার কার্যক্রমে নানা অনিয়ম ও পরিবেশ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযান চালানো হয়। তবে অভিযান চলাকালে ভাটার শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানিক দল।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মকসেদ আলী ব্রিকস দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই এবং নির্ধারিত আইন না মেনে ইট উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। এছাড়া ভাটাটিতে আধুনিক জিগজ্যাগ প্রযুক্তি ব্যবহার না করে সনাতন পদ্ধতিতে ইট পোড়ানো হচ্ছিল, যার ফলে আশপাশের এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভাটার কালো ধোঁয়ায় এলাকার ফসল, বসতবাড়ি ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর আগেও একই ইটভাটায় একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আরোপ ও সতর্ক করা হলেও কর্তৃপক্ষ তা মানেনি। বারবার নির্দেশনা উপেক্ষা করায় পরিবেশ অধিদপ্তর এবার কঠোর অবস্থানে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে ভাটার শ্রমিকরা হঠাৎ করে অভিযানিক দলের কাজে বাধা প্রদান করে। একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শ্রমিকরা অভিযান বন্ধের দাবিতে ভাটার ভেতরে জড়ো হয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে কিছু সময়ের জন্য অভিযান কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং অভিযান পুনরায় শুরু করা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযানে বাধা প্রদানকারীদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মকসেদ আলী ব্রিকসের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তির শিকার। ভাটার ধোঁয়া ও ছাইয়ে শিশু ও বৃদ্ধদের শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ দেখা দিচ্ছে। দ্রুত ভাটাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার দাবি জানান তারা।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, জেলার অবৈধ ও পরিবেশবিধি লঙ্ঘনকারী ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো ধরনের চাপ বা বাধার কাছে নতি স্বীকার করা হবে না।