
খন্দকার জলিল,জেলা ব্যুরো প্রধান, পটুয়াখালী
পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভা দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ইউএনও মাহমুদুল হাসান।
পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির সমন্বয়ে পুরো শহরজুড়েই চলছে তীব্র কর্মযজ্ঞ। আর এসব উন্নয়ন কার্যক্রমের কেন্দ্রে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান—যিনি নিজের আন্তরিকতা, সততা ও দূরদর্শী নেতৃত্বে গলাচিপাকে আধুনিক শহর গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন দিন-রাত।
শহরের রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে জলাধার, পার্ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা—সবখানে তার তদারকি সর্বক্ষণিক।
অফিস শেষে গভীর রাতেও বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে উন্নয়নকাজ তদারকি করা তার নিত্যদিনের অভ্যাস। তার এই অদম্য পরিশ্রম ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের কাছে তৈরি করেছে এক নতুন আশার সঞ্চারণ।
গলাচিপার চলমান গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে —
অবকাঠামো ও সড়ক উন্নয়ন
• নতুন উপজেলা সম্প্রসারণ ভবনের সামনের সড়ক সম্প্রসারণ ও কার্পেটিং
• সিনেমা হলের সামনের সড়ক সম্প্রসারণ
• পৌর এলাকার ভাঙা রাস্তা মেরামত অবশিষ্ট অংশ দ্রুত সম্পন্ন হবে
• পানির ট্যাংকির পাশের রাস্তায় নতুন ড্রেন নির্মাণ
সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিচ্ছন্নতা
• উপজেলা চত্বরে ফুলের বাগান নির্মাণ
• নতুন উপজেলা ভবনের সামনের নালা-নর্দমা মাটি-বালু দিয়ে ভরাট
• উপজেলা ভবনের সামনের লেক-পুকুর খনন করা
• পুরাতন উপজেলা ভবনের সামনের পুকুরকে আধুনিক লেক হিসেবে রূপায়ন
• পৌর মঞ্চ আধুনিকায়ন করা
• থানার সামনে শ্লুইস গেট নির্মান ও তদারকি করা
খাল, জলাধার ও নগর পরিকল্পনা
• পৌরসভার ভেতরের খাল খননের কাজ হাতে নেওয়া
• খাল থেকে নদী পর্যন্ত সংযোগ খাল খনন
নগর নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি
• শিশুদের জন্য আধুনিক পার্ক নির্মাণ কাজ শুরু
• খেয়াঘাটের সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করে গাড়ী স্ট্যান্ড নির্মাণ করা
• খেয়াঘাটের দক্ষিণ পাশে আধুনিক পার্ক নির্মাণ
ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন
• মডেল মসজিদের কাজ তদারকি করা
• গলাচিপায় কেন্দ্রীয় শহীদমিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা
উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে ইউএনও মাহমুদুল হাসান বলেন— “গলাচিপা পৌরসভাকে একটি আধুনিক, দুর্গন্ধমুক্ত ও সুশৃঙ্খল শহর হিসেবে গড়ে তোলাই আমার মূল লক্ষ্য। জনগণের সহযোগিতা পেলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই গলাচিপা দেশের অন্যতম সুন্দর ও আদর্শ নগরীতে পরিণত হবে।”
একজন নিবেদিতপ্রাণ প্রশাসকের প্রতিচ্ছবি
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর দায়িত্ব গ্রহন করার পরা পরই তিনি দায়িত্ব পালন করেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং পৌর প্রশাসকের। দায়িত্ব যতই কঠিন হোক—তিনি কখনো ক্লান্ত হন না; বরং আরও উৎসাহ ও উদ্যম নিয়ে এগিয়ে চলেন।
স্থানীয় জনগণের কাছে তিনি “সারথী ইউএনও” হিসেবেও পরিচিত। যা ইতোমধ্যে একাধিক পত্রিকায়ও প্রকাশ পেয়েছে। প্রতিদিনের ব্যস্ততা শেষে গভীর রাতেও শহরের উন্নয়নকাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা তার অটুট দায়িত্ববোধেরই প্রমাণ।
সব মিলিয়ে গলাচিপায় চলছে এক নীরব কিন্তু দৃশ্যমান বিপ্লব। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন—ইউএনও মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্ব, নিষ্ঠা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই গলাচিপা খুব শিগগিরই হয়ে উঠবে— একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও নান্দনিক শহর।