
মোঃ সুজন আহাম্মেদ সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ৭নং দেওপাড়া ইউনিয়নের যুগিডাংগ এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে রাত নামলেই ভারী ভেকুর শব্দে চারদিক কেঁপে ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে অবৈধভাবে চলছে মাটিকাটা। নামেই আইন, বাস্তবে যেন কেউ কিছুই দেখছে না—ডিসি, ইউএনও, এসিল্যান্ড কেউই।
গোদাগাড়ী উপজেলার ৭নং দেওপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির কিছু প্রভাবশালী চক্রের সহায়তায় অবৈধ ভাবে গভীর রাতে ভেকু ও ডাম্পার ব্যবহার করে কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে, যা পরিবেশ ও জনজীবনের জন্য মারাত্মক হুমকি, অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন বা জনপ্রতিনিদলের নিষ্ক্রিয়তা বা যোগসাজশে এটি চলছে, এতে করে ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ির ক্ষতি হচ্ছে।
গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ভেকু, এক্সক্যাভেটর ও ডাম্পার ব্যবহার করে মাটি কাটা হয়, যা সাধারণ মানুষের চোখ এড়িয়ে যায় এবং অভিযানের সময় ধরা পড়া এড়ানো যায়।
প্রভাবশালী ব্যক্তি, স্থানীয় নেতা বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই কাজ চলে, যারা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এবং মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করে।
কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট, বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাটে ফাটল ধরা, এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া এর অন্যতম প্রধান পরিণতি।
মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালালেও, প্রভাবশালী চক্রের কারণে তা স্থায়ী সমাধান আনতে পারে না।
এটি একটি বড় ধরনের পরিবেশ দূষণ ও অপরাধমূলক কাজ যা রাতে সংঘটিত হচ্ছে এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
এলাকার মানুষ বলছেন, মাটিকাটার সবচেয়ে বড় আঘাত পড়ছে কৃষিজমিতে। মাটির স্তর কমে যাচ্ছে, জমি আর পানি আটকে রাখতে পারছে না। ফলে ধান, শাকসবজি—সবকিছুই ক্ষতির মুখে। যাঁরা বছরের পর বছর নির্ভর করে চাষাবাদ করেছেন, এখন তাঁদের কাছে ভবিষ্যৎটাই অনিশ্চিত।
কয়েকজন কৃষক জানালেন, অভিযোগ করেও কোনো কাজ হয়নি। দিনের বেলা নিয়মকানুনের কথা শোনা যায়, রাতে সব নিয়ম উধাও হয়ে যায়। এই ফাঁকে চলছে জমি নষ্টের অঘোষিত প্রতিযোগিতা। তাঁদের আশঙ্কা, এখনই ব্যবস্থা না নিলে আগামী মৌসুমে ক্ষতির মাত্রা আরও ভয়াবহ হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও এলাকাবাসী দ্রুত অবৈধ মাটিকাটা বন্ধের দাবি তুলেছেন। তাঁদের কথা পরিষ্কার—জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, আর প্রশাসনকে মাঠে নেমে দেখাতে হবে যে আইন শুধু কাগজে নয়, বাস্তবেও আছে।