
মোঃ মেহেদী হাসান, স্টাফ রিপোর্টার:
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় জাতীয় পার্টির (জাপা) দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটিতে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। দলটির শীর্ষ নেতা ও গাইবান্ধা জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার আতা প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় সাঘাটা উপজেলার ডাকবাংলা বাজারসংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল যোগদান সভায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। এই দলবদলকে স্থানীয় রাজনীতিতে বড় চমক হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আতাউর রহমান সরকারের সঙ্গে সাঘাটা উপজেলা জাতীয় পার্টির সদস্যসচিব মমিতুল হক নয়নসহ দলটির প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগ দেন।
আতাউর রহমান সরকার আতা গাইবান্ধার রাজনীতিতে একজন পরিচিত ও প্রভাবশালী নেতা। তিনি একাধারে গাইবান্ধা জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাঘাটা উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মতো একজন ‘হেভিওয়েট’ নেতার দলত্যাগকে সাঘাটায় জাতীয় পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও ৬ নম্বর ঘুড়িদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদ তুলিপের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত যোগদান সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব ফারুক আলম সরকার। তিনি নবাগতদের ফুলের তোড়া দিয়ে বিএনপিতে বরণ করে নেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল নবি টিটুল এবং জেলা বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আসাদুল কবির রাঙ্গা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য কামরুজ্জামান সোহাগসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
দীর্ঘদিন ধরে সাঘাটা উপজেলা জাতীয় পার্টির অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে আতাউর রহমান সরকারের দলত্যাগে সেই দুর্গের ভিত নড়ে গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক মহল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে এই দলবদল আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।