
এস এম জসিম | বিশেষ প্রতিনিধি
সুষ্ঠু নির্বাচনে সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধের পরিচয় দিন — ডিসি জাহিদুল ইসলাম মিয়া।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ভোটগ্রহণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি শতভাগ সততা, নিরপেক্ষতা ও বিবেকবোধের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
তিনি বলেন, “মানুষের ভোটাধিকার রাষ্ট্রের একটি পবিত্র আমানত। এই আমানতের প্রতি কোনো ধরনের বেইমানি বরদাশত করা হবে না।”
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা ও দিনব্যাপী নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. নাজমুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ মোস্তাক আহমদ এবং সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, কোনো দুষ্কৃতিকারী বা সন্ত্রাসী যদি নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করে, প্রশাসন তা কঠোরভাবে প্রতিহত করবে। এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে কয়েক মিনিটের মধ্যেই যে কোনো স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পৌঁছাতে পারে। তাঁর ভাষায়,
“লক্ষ্য হলো সার্বিক পরিবেশকে উৎসবমুখর রাখা এবং একটি আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া।”
ডিসি জাহিদুল ইসলাম আরও জানান, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সিসিটিভি ক্যামেরা, সুরক্ষা অ্যাপ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বডি–ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিকভাবে মনিটরিং করা হবে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা প্রশাসন নিশ্চিত করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন,
“১২ ফেব্রুয়ারি কেবল একটি নির্বাচন নয়; এটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও কাঠামোগত সংস্কারের একটি রূপরেখা তৈরি হবে।”
জেলা প্রশাসক বলেন, এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো ভোটগ্রহণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা। এই পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই; আমাদের সবাইকে উত্তীর্ণ হতে হবে।
ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন,
“কারো ব্যক্তিগত পছন্দ বা অনুভূতি থাকতে পারে, তবে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার পর তা প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই। কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার দায় নির্বাচন কমিশন নেবে না—প্রত্যেককে নিজ নিজ বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হবে।”
গণভোট বিষয়ে ভোটারদের যথাযথভাবে অবহিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ভোটারদের কোনো প্রশ্নের উত্তরে ‘আমি জানি না’—এ ধরনের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। দায়িত্ব গ্রহণের অর্থই হলো বিষয়গুলো ভালোভাবে জানা এবং ভোটারকে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে বলা।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, অতীতের যে কোনো গ্লানি বা নেতিবাচক ধারণা মোচন করে নিজেদের প্রমাণ করার এটাই সুযোগ। জনগণের প্রত্যাশা ও রাষ্ট্রের প্রত্যাশা একটাই—একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মোট ৯২টি ভোটকেন্দ্রের জন্য দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এতে ৯২ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৭১০ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ২২০ জন পোলিং অফিসার অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে ভোটগ্রহণ–সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা, ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, গণভোট পরিচালনার পদ্ধতি, ভোটার সহায়তা এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলার বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়।