রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন
ঘোষনা
পদ্মা সেতু চালু হইছে,এহন তাজা মাছ পাঠামু ঢাকায়, কুয়াকাটার জেলেরা। চট্টগ্রাম পাহাড়তলীতে কাউন্সিলর এর পুত্রবধূর রহস্যজনক মৃত্যু। গোদাগাড়ীতে সততা ট্রেডার্স গোডাউনে জুস বানানোর আমে পোকা তানোরে ৭৫০ কেজি টিসিবির ডাল উদ্ধার শেখ ফজলে শামস পরশের জন্মদিন উপলক্ষে সন্দ্বীপে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত। শেখ ফজলে শামস পরশের জন্মদিন উপলক্ষে সন্দ্বীপে লায়ন মিজানুর রহমানের আয়োজনে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকার কাজ করছে— খাদ্যমন্ত্রী শাহজাদপুর উপজেলা বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সাবেক জি এস পলাশের মৃত্যুবরণ ময়মনসিংহের ভালুকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান । আজ ঐতিহাসিক ‘হুল দিবস’! সিঁদু-কানু-ফুলমনি’র সংগ্রামের ইতিহাস।

বরিশাল বিভাগে তীব্র তাপপ্রবাহ ও বৃষ্টিহীনতায় বাড়ছে ডায়রিয়ার রোগীর সংখ্যা

রানা ইস্কান্দার রহমান
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২২
  • ৩১ বার পঠিত

গাইবান্ধা জেলা ব্যুরো প্রধানঃ
বরিশাল বিভাগে ধারাবাহিক তাপপ্রবাহে ওষ্ঠাগত জনজীবন। বৃষ্টিহীনতা দাবদাহের এই অসহনীয় অবস্থাকে আরও তীব্র করে তুলছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে ডায়রিয়ার রোগীর সংখ্যা।চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বিভাগের ছয় জেলায় ২৬ হাজার ৫৯১ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে এপ্রিলের ২৫ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ হাজার ৩১৮ জন।

বরিশাল আবহাওয়া বিভাগ বলছে, এবার জানুয়ারি থেকেই বিভাগের আবহাওয়ায় চরমভাবাপন্ন বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যাচ্ছে। একদিকে তীব্র তাপপ্রবাহ, অন্যদিকে বৃষ্টিহীনতা পরিস্থিতিকে ক্রমেই অস্বাভাবিক করে তুলছে।

আবহাওয়া বিভাগ থেকে জানা গেছে, জানুয়ারি মাসে বরিশালে সর্বোচ্চ স্বাভাবিক তাপমাত্রা থাকার কথা ২৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেখানে ছিল ২৯ দশমিক ২। ফেব্রুয়ারিতে থাকার কথা ২৮ দশমিক ২, সেখানে ছিল ৩২। মার্চে সর্বোচ্চ স্বাভাবিক তাপমাত্রা থাকার কথা ৩২ দশমিক ২, সেখানে ছিল ৩৪ দশমিক ৪ আর এপ্রিলে থাকার কথা ৩৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেখানে ছিল ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অনুভূত তাপমাত্রা ছিল আরও বেশি।

অধিক তাপমাত্রার পাশাপাশি এবার বরিশালে বৃষ্টিহীনতার প্রবণতাও বেশি। বিভাগে জানুয়ারিতে যেখানে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা ৮ দশমিক ৯ মিলিমিটার, সেখানে বৃষ্টি হয়েছে ৪ দশমিক ৩। ফেব্রুয়ারিতে হওয়ার কথা ২৭ মিলিমিটার, সেখানে হয়েছিল ৩৬ দশমিক ৪। ফেব্রুয়ারিতে স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি বৃষ্টি হয় বিভাগে। কিন্তু মার্চে ৫৭ দশমিক ১ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়া কথা থাকলেও বৃষ্টি হয়নি এক ফোঁটাও। এপ্রিলে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা ১৩৫ দশমিক ৫ মিলিমিটার, সেখানে গত ২৫ দিনে মাত্র ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

গ্রামাঞ্চলে নদী ও খালের পানি ব্যবহারকারীরা ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হন। গত বছরের মতো এবারও আক্রান্তের হার বেশি।বরিশাল আবহাওয়া কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মো. মাহফুজুর রহমান মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল)সাংবাদিকদের বলেন, এবার জানুয়ারি থেকে তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যাচ্ছে। সেই সঙ্গে বৃষ্টিহীনতা তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতিকে আরও অসহনীয় ও ঊর্ধ্বগামী করে তুলছে। তিনি আরো বলেন, আগামী ২ মের আগে আপাতত বৃষ্টির কোনো পূর্বাভাস নেই।

তাপমাত্রা ও বৃষ্টির এই অস্বাভাবিকতা এ অঞ্চলের জনস্বাস্থ্য ও কৃষির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বাড়ছে ডায়রিয়াসহ নানা রোগব্যাধি। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, জানুয়ারি থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বিভাগের ছয় জেলায় ২৬ হাজার ৫৯১ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে এপ্রিলের শেষ ২৫ দিনে ১৪ হাজার ৩১৮ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জানুয়ারি মাসে বিভাগে ৪ হাজার ৮১১ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এর পরের মাসে তা অনেকটা কমে গিয়েছিল। ফেব্রুয়ারিতে ভর্তি হয়েছিলেন ১ হাজার ৮১০ জন। আর মার্চে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৬৫২ জনে। এরপর এপ্রিলের ২৫ দিনে তা আরও বেড়ে হাসপাতালে এসেছেন ১০ হাজার ৮১৪ জন ডায়রিয়া রোগী। গত এক সপ্তাহে ৩ হাজার ৬৭৮ জন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আক্রান্তের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি রোগী বরিশালে ৭ হাজার ৯১১ জন। দ্বিতীয় ভোলা জেলায় ৫ হাজার ৩০৬, এরপরে পটুয়াখালী জেলায় ৪ হাজার ৫৩৫। এ ছাড়া পিরোজপুরে ৪ হাজার ১৪১, বরগুনায় ২ হাজার ৫৪৬ ও ঝালকাঠিতে ২ হাজার ১৫২ জন রোগী আক্রান্ত হয়েছেন। তবে বেসরকারি সূত্রগুলো বলছে, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হলে সরকারি হিসাবের খাতায় আসে। কিন্তু আক্রান্ত রোগীর ৬০ ভাগই হাসপাতালে যান না।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল এক۔ প্রশ্নের জবাবে বলেন, চৈত্র-বৈশাখে পানিবাহিত রোগটির প্রকোপ দেখা দেয়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে নদী ও খালের পানি ব্যবহারকারীরা ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হন। গত বছরের মতো এবারও আক্রান্তের হার বেশি। এবার ধারাবাহিক তাপপ্রবাহ ও বৃষ্টিহীনতা ডায়রিয়ায় আক্রান্তের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল আরও বলেন, ডায়রিয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার বিষয়টি তাপমাত্রা কমা ও বৃষ্টির ওপর নির্ভর করছে। এখন প্রতিদিন গড়ে ৪০০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তবে এখনো কারও মৃত্যু হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..
এই পত্রিকার সকল সংবাদ, ছবি ও ভিডিও স্বত্ত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ দৈনিক মাতৃজগত    
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ Bangla Webs
banglawebs999991