
মোঃ শাকিল খান রাজু সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:-
ভোলার মনপুরা উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে পাঙ্গাস মাছের পোনা ধ্বংস করা হচ্ছে।
নদী ও খালে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে প্রতিদিন হাজার হাজার পোনা ধরে ফেলা হলেও বিষয়টি দেখেও না দেখার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মৎস্য অফিসের বিরুদ্ধে। স্থানীয় জেলে ও এলাকাবাসী এমন অভিযোগ জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল এবং নদীর শাখা-প্রশাখায় ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অবাধে পোনা শিকার চলছে। বিশেষ করে সূক্ষ্ম জাল ও কারেন্ট জাল ব্যবহার করে পাঙ্গাসের পোনার পাশাপাশি অন্যান্য দেশীয় মাছের বাচ্চাও নির্বিচারে নিধন করা হচ্ছে। এসব পোনা পরবর্তীতে স্থানীয় আড়ত ও হাট-বাজারে প্রকাশ্যেই বিক্রি করা হচ্ছে।
স্থানীয় জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পোনা ধরা বন্ধ না হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নদীতে মাছই থাকবে না। আমরা বারবার উপজেলা মৎস্য অফিসে জানিয়েছি, কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, বলেন একাধিক জেলে।
আইন অনুযায়ী মাছের পোনা শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও বাস্তবে এর কোনো প্রয়োগ চোখে পড়ছে না। অভিযোগ রয়েছে, নিয়মিত তদারকি ও অভিযান না থাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র প্রকাশ্যেই এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে ভবিষ্যৎ মাছ উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রকৃত মৎস্যজীবীরা।
এ বিষয়ে পরিবেশবিদ মো. মফিজুর রহমান বলেন, পাঙ্গাসের পোনা নিধন শুধু একটি মাছের ক্ষতি নয়, এটি পুরো জলজ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। এর ফলে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন কমে যাবে এবং খাদ্য সংকটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা মৎস্য অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উজ্জ্বল বনিক বলেন, লোকবল সংকটের কারণে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে পারছি না। তবে গত ১১ নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৫টি চাই ও ২টি নৌকা জব্দ করা হয়েছে। আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। তিনি আরও জানান, জনবল সংকটের কারণে বাজারগুলো নিয়মিত মনিটরিং করা সম্ভব হচ্ছে না।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে অবৈধ পোনা শিকার বন্ধে কঠোর অভিযান, নিয়মিত নজরদারি এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক। তা না হলে অদূর ভবিষ্যতে মনপুরার নদী ও খাল মাছশূন্য হয়ে পড়বেএ আশঙ্কাই এখন সবার মুখে মুখে।