
নিজস্ব প্রতিবেদক:-
মফস্বল সাংবাদিকতায় আজ এক গভীর সংকট বিরাজ করছে। সাংবাদিকদের নিজেদের মধ্যকার জটিলতা, দলাদলি, পারস্পরিক হয়রানি এবং একের পর এক ভিন্ন ভিন্ন নামে সংগঠন গড়ে তোলাকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের যেন শেষ নেই। নতুন কোনো সাংবাদিকের আগমন অনেক ক্ষেত্রেই কিছু প্রবীণ সাংবাদিক সহজভাবে গ্রহণ করতে পারেন না। দুঃখজনক হলেও সত্য, এই বাস্তবতার একজন প্রত্যক্ষ ভুক্তভোগী আমি নিজেই।
সাংবাদিকতার প্রতি আমার আগ্রহ বহুদিনের। কোনো নাটক কিংবা চলচ্চিত্রে সাংবাদিক চরিত্রে অভিনয় দেখলেই আমি গভীর মনোযোগ দিয়ে তা উপভোগ করতাম। সাংবাদিকতাকে ঘিরে আমার ভালোবাসা ছিল প্রবল—এখনো আছে। এই ভালোবাসার কারণেই আমি সবসময় এ পেশার মানুষদের গভীর শ্রদ্ধার চোখে দেখে এসেছি।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, আজ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা প্রায় বিলুপ্তির পথে। পেশাদার ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন—সাইবার আক্রমণ, হুমকি, অপপ্রচার, মিথ্যা মামলা ও নানা অদৃশ্য চাপ তাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। এসব প্রতিকূলতার কারণে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা থেকে সরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
প্রতিটি অঞ্চলে প্রতিদিন সাংবাদিকের সংখ্যা বাড়লেও প্রকৃত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার উপস্থিতি এখন প্রায় নেই বললেই চলে। বিভিন্ন পেশা ছেড়ে অনেকেই সাংবাদিকতাকে ‘সহজ পেশা’ মনে করে এতে যুক্ত হচ্ছেন। অথচ দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ, পেশাদার ও নৈতিক সাংবাদিকরা টিকে থাকার সংগ্রামে ক্লান্ত হয়ে সাংবাদিকতা ছেড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা অন্য পেশায় ঝুঁকে পড়ছেন।
এই বাস্তবতায় সাংবাদিক সমাজে দলাদলি, বিভাজন ও অন্তর্দ্বন্দ্ব দিন দিন আরও প্রকট হয়ে উঠছে। পেশাগত ঐক্য, নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব যদি দ্রুত পুনরুদ্ধার করা না যায়, তাহলে এই সংকট থেকে উত্তরণের কোনো কার্যকর পথ আর অবশিষ্ট থাকবে না।
আজ আমরা স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি—মূলধারা সাংবাদিকতা আমাদের মধ্য থেকেই হারিয়ে যাচ্ছে। যদি এখনই আত্মসমালোচনা ও ঐক্যের পথে না ফেরা যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো আর প্রকৃত অর্থে মূলধারা সাংবাদিক দেখার সুযোগ পাবে না।