রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২, ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন
ঘোষনা
পদ্মা সেতু চালু হইছে,এহন তাজা মাছ পাঠামু ঢাকায়, কুয়াকাটার জেলেরা। চট্টগ্রাম পাহাড়তলীতে কাউন্সিলর এর পুত্রবধূর রহস্যজনক মৃত্যু। গোদাগাড়ীতে সততা ট্রেডার্স গোডাউনে জুস বানানোর আমে পোকা তানোরে ৭৫০ কেজি টিসিবির ডাল উদ্ধার শেখ ফজলে শামস পরশের জন্মদিন উপলক্ষে সন্দ্বীপে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত। শেখ ফজলে শামস পরশের জন্মদিন উপলক্ষে সন্দ্বীপে লায়ন মিজানুর রহমানের আয়োজনে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকার কাজ করছে— খাদ্যমন্ত্রী শাহজাদপুর উপজেলা বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সাবেক জি এস পলাশের মৃত্যুবরণ ময়মনসিংহের ভালুকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান । আজ ঐতিহাসিক ‘হুল দিবস’! সিঁদু-কানু-ফুলমনি’র সংগ্রামের ইতিহাস।

রাজাকার পুত্র উপজেলা আ’লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৪ জুন, ২০২২
  • ৭২ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সরকারের প্রকাশিত তালিকাভুক্ত পোরশা উপজেলার ১ রাজাকার হাজী সমসের আলীর পুত্র হাজী আব্দুল ওয়াদুদ উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক পদে আসীন হয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ দাপটের সাথে রাজনীতি করে আসছেন।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সংগঠক হলে ও এই দলের ছত্রছায়ায় নওগাঁ জেলার পোরশা উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদকের পদ আঁকড়ে ধরে আছেন তালিকা ভুক্ত রাজাকার হাজী সমসের আলীর পুত্র হাজী আব্দুল ওয়াদুদ।

বাং

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ৭বছর ধরে রাজাকার পুত্র উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। সর্ব শেষ উপজেলা আওয়ামীলীগের দলীয় ত্রিবার্ষিকী কাউন্সীলের মাধ্যমে মনোনীত হয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদকের পদে আসীন আছেন তিনি।

এতে করে যেমন উপজেলার ত্যাগী আওয়ামী পরিবারের সদস্যরা পদবঞ্চিত হচ্ছেন ঠিক তেমনি ভাবে রাজাকার পুত্রের ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে অতিষ্ট হচ্ছেন স্থানীয় আ’লীগের নেতাকর্মী সহ সাধারণ মানুষ।

এত ক্ষমতার উৎস কোথায়? একজন সরকারি তালিকাভুক্ত রাজাকার পুত্র কিভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর মতো মুক্তিযুদ্ধের স্ব-পক্ষের রাজনৈতিক দলের উপজেলা কমিটিতে স্থান পায় এবং দাপটের সাথে রাজনীতি করে সে প্রশ্ন উপজেলা আওয়ামীলীগের অনেক নেতাকর্মীদের মধ্যে।

এ বিষয়ে পোরশা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন “এ বিষয়ে পরে কথা হবে। আমি এখন নামাজে যাবো। এই বলে ফোন কেটে দেন তিনি।

একজন রাজাকার পুত্র কমিটিতে স্থান পায় কোন ক্ষমতার বলে? এ বিষয়ে পোরশা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন এর নিকট জানতে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে হলে সাক্ষাতে আসতে হবে, মোবাইলে নয়।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ সভাপতি ও সদস্য ওবায়দুল্লাহ শেখ বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা আছে যে, কোন রাজাকারের সন্তানদের উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটিতে স্থান দেয়া যাবেনা। কিন্তু এখানে তার ভিন্ন। যা আমাদের কারুর কাম্য নয়।

তাহলে কি করে হাজী ওয়াদুদ এই কমিটিতে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেখুন উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন করা হয় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের দ্বারা। তারা জেনে শুনে যদি রাজাকার পুত্রকে কমিটিতে রাখেন তাহলে আমাদের কি করার আছে। আমরা কখনই রাজাকার পুত্রের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজনীতি করতে চায়না বলেও জানান তিনি।

একই বিষয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডাক্তার আজিজের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক কথায় বলতে গেলে এটা অনেক দুঃখের এবং লজ্জার। কারণ এটি আওয়ামী লীগের কোন অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন না। রাজাকার পুত্র মূল দলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন। আমরা অতি ক্ষুদ্র কর্মী। এখানে জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের নেতারা এটা বাস্তবায়ন করেছেন। তাদের বাইরে কথা বলার শক্তি বা সাহস আমাদের নেই।

তবে এ বিষয়ে ভাইস চেয়ারম্যান কাজিবুল ইসলাম বলেন, থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোটা অংকের টাকা খেয়ে রাজাকার পুত্র হাজী আব্দুল ওয়াদুদ কে উপজেলা কমিটিতে স্থান দিয়েছেন। বিষয়টি মাননীয় খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার ভালোভাবে জানলেও অজানা কারণে তাকে সে পদে বহাল রেখেছেন। রাজাকার পুত্রকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছেন।

ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, আমি থানা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ছিলাম। সত্য কথা বলায় আমাকে উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য পদে রেখেছেন। রাজাকার হাজী সমসের আলীর ছেলেরা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে বাড়ি বাড়ি সহ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

কাজিবুল ইসলাম আরোও বলেন, শুধু তাই নয় পোরশা উপজেলার ১নং তালিকাভুক্ত রাজাকার হাজি সরসের আলীর বড় ছেলে হাজী ওয়াদুদের ভাই আব্দুল মাতিনও থানা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

এছাড়াও তার ছোট ভাই মাহবুব হোসেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা আওয়ামীলীগের একাধিক নেতা কর্মী বলেন রাজাকার পুত্র হাজী আব্দুল ওয়াদুদ ও তার বড়ভাই আব্দুল মাতিন এর আচরণে ক্ষুব্ধ দলীয় নেতা কর্মী সহ সাধারণ মানুষ। হাজি সাহেব সব সময় নিজেকে সর্ব ক্ষমতার মালিক মনে করেন। যার ফলে পুলিশ প্রশাসন সহ সবখানে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে চলেন।

তারা বলছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের বড় পদধারী ক্ষমতাধর নেতাদের ছত্রছায়ায় রাজনীতি করছেন রাজাকার পুত্ররা। সে কারণে কারো পক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কিছু করা সম্ভব হচ্ছেনা বলেও জানা তারা।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, তিনি যেভাবে আমাদেরকে অর্ডার করেন তাতে মনে হয় আমরা তার জন্যই চাকুরি করতে এসেছি।

এমতাবস্থায় বিষয়টি গুরুত্বের সহিত দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ওবাইদুল কাদের এর প্রতি আহ্বান জানান পোরশা উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা।

তাদের দাবি অনতিবিলম্বে যেন আওয়ামী লীগের কমিটি থেকে রাজাকার পুত্রদের পদচ্যুত করা হয়। তা না হলে তাদের দৌরাত্ম কমবে না বলে মনে করেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..
এই পত্রিকার সকল সংবাদ, ছবি ও ভিডিও স্বত্ত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ দৈনিক মাতৃজগত    
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ Bangla Webs
banglawebs999991