
খন্দকার জলিল জেলা ব্যুরো প্রধান, পটুয়াখালী
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় সাংবাদিক, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়েরের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করেছেন অভিযুক্তরা। স্থানীয়দের বক্তব্যেও অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গলাচিপা সদর ইউনিয়নের রতনদী ইটবাড়ীয়া গ্রামের বাসিন্দা কাইয়ুম মৃধার স্ত্রী মোসা. মরিয়ম বেগম (৩১) বাদী হয়ে জাতীয় দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার গলাচিপা উপজেলা প্রতিনিধি ও গলাচিপা মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক এবং উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ (৫৫)-সহ শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মিলিয়ে মোট ১৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযুক্তরা তার উপজেলার সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের রতনদী গ্রামের বাড়িতে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত ও হাড়ভাঙা জখম করে। একই সঙ্গে ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয় এবং ভাংচুর করে ক্ষতিসাধন করার অভিযোগও করা হয়।
তবে ঘটনাস্থল এলাকার একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রতনদী ইটবাড়ীয়া গ্রামে কাইয়ুম মৃধার বাড়িতে এ ধরনের কোনো হামলা বা লুটপাটের ঘটনা তারা শোনেননি। তারা জানান, কাইয়ুম মৃধার সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে, যা গলাচিপা পৌরসভার আওতাধীন এলাকায়। সেখানে মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে শোনা গেলেও কে কাকে মারধর করেছে—তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেননি।
অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাদীর বাড়িতে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। বরং গত সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে কাইয়ুম মৃধা কয়েকজন সন্ত্রাসী নিয়ে তাদের ভোগদখলীয় জমি দখলের চেষ্টা করেন। এতে তারা বাঁধা দিলে উল্টো ধারালো অস্ত্র দিয়ে অভিযুক্তদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তারা গুরুতর রক্তাক্ত ভাবে আহত হয়ে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রকৃত ঘটনাটি আড়াল করতেই পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ এনে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে বাদীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের পক্ষে অনড় থেকে জানান, অভিযুক্তরা তার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসার সামনে এসে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে তার স্বামীসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যদের আহত করে এবং নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার এবং বাসায় থাকা মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়।
মামলায় ঘটনাস্থল এবং অভিযুক্তদের ঠিকানা দেখানো হয়েছে গলাচিপা সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের রতনদী গ্রামে। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পরেনি।
অভিযোগ প্রসঙ্গে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জিল্লুর রহমান বলেন, “অভিযোগের কপি পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের বক্তব্য ও অভিযুক্তদের দাবি বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের জের ধরে প্রকৃত ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন মহলের।