
ইব্রাহিম খলিল, পাবনা জেলা প্রতিনিধি:
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার চাঁদভা ইউনিয়ন-এর কুমড়েশ্বর গ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে বড় ভাইকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাই ও ভাতিজার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত ব্যক্তি থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুমড়েশ্বর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ রবিন উদ্দিন প্রাং (৩৯)-এর সঙ্গে তার ছোট ভাই মোঃ রবিউল ইসলাম প্রাং (৪২) ও ভাতিজা মোঃ শাওন প্রাং (২০)-এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমির ভোগদখল নিয়ে বিরোধ চলছিল।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৬ মার্চ বিকাল আনুমানিক ৩টার দিকে আসামিদের বসতবাড়ির সামনে পাকা রাস্তায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে রবিন উদ্দিনের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় রবিউল ইসলাম প্রাং-এর নির্দেশে তার ছেলে শাওন প্রাং ধারালো ছুরি দিয়ে রবিন উদ্দিনের বুকে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং বাম পাশে গভীর জখম হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আহত অবস্থায় মাটিতে পড়ে গেলে রবিউল ইসলাম জিআই পাইপ দিয়ে তার মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে ভুক্তভোগীর বাম হাতের আঙুলে গুরুতর আঘাত লাগে। এ সময় তাকে কিল-ঘুষি ও লাথিও মারা হয়।
চিৎকার শুনে এগিয়ে আসেন ভুক্তভোগীর মামা মোঃ ইশারত আলী (৬৬)। তাকেও জিআই পাইপ দিয়ে আঘাত করা হলে তার ডান হাতের কবজিতে গুরুতর জখম হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া হামলার সময় ভুক্তভোগীর প্যান্টের পকেট থেকে নগদ ৫২ হাজার ১০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা আহতদের উদ্ধার করে আটঘরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রবিন উদ্দিনের বুকে সাতটি সেলাই দেন এবং অপর আহতকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
এ ঘটনায় কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার পর অভিযুক্তরা ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
তবে অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত নয়। তাদের ভাষ্য, হাসাহাসির সময় অসাবধানতাবশত ছুরির আঘাত লেগে এ ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে আটঘরিয়া থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।