
এস এম জসিম, বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম: জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, “১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে। কেউ জিতবে, কেউ হারবে। কিন্তু আমরা এই নির্বাচনকে দেশের জন্য জেতাতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই সমগ্র দেশের মানুষ যেন হাসিমুখে ভোট দিতে পারে এবং দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন দেশের উন্নয়ন ও শান্তির সুফল উপভোগ করতে পারে।”
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাউজান সরকারি কলেজে রাউজান উপজেলার প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের ব্রিফিং ও যৌথ মহড়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।
নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে সতর্ক করে জেলা প্রশাসক বলেন,
“যদি কারও মধ্যে নেতিবাচক মানসিকতা থাকে, তবে এই প্রক্রিয়া থেকে সরে যেতে হবে, না হলে পরিণতি কঠিন হবে। এই নির্বাচন কোনো ক্ষমতার পালাবদল বা চেয়ারের পরিবর্তন নয়। এটি আগামী বাংলাদেশের রূপরেখা—যে বাংলাদেশে আমরা, আমাদের সন্তানরা নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।”
তিনি জানান, নির্বাচনী মাঠে কেউ যোগ্যতা ও দক্ষতার ঘাটতি দেখালে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। জেলা প্রশাসক বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটি উৎসবমুখর, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা।”
ডিসি জাহিদুল বলেন, “নির্বাচনে সবাই মনিটরিংয়ের আওতায়। আমাকেও মনিটর করা হচ্ছে, আপনাকেও। কেউ এর বাইরে নয়। কোনো কেন্দ্রে ঘটনা ঘটলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে মোবাইল টিম পৌঁছে ব্যবস্থা নেবে।”
প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ফোর্স থাকবে। তবে নাগরিকরা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা আপনার দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “আপনাদের হাতে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, সেই ক্ষমতা যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হবে। এই দেশ এসেছে ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে, সেই রক্তের সঙ্গে কোনো প্রতারণা চলবে না।”
জেলা প্রশাসক দেশের সংগ্রামী ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “আজ আপনাদেরও যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। একজন নাগরিক জীবনে কয়বার দেশকে কিছু দেওয়ার সুযোগ পায়? আজ সেই সুযোগ এসেছে। এই দেশের ভবিষ্যৎ আমাদেরই হাতে।”
তিনি সকলকে সতর্ক করে বলেন, “ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অনুরাগ থাকলেও, নির্বাচন কমিশনের অধীনে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুধু দেশের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হবে। বিবেক বিক্রি করা যাবে না। রাষ্ট্রের যে আমানত আপনাদের হাতে দেওয়া হয়েছে, তা নিরপেক্ষভাবে ফেরত দিতে হবে।”
জেলা প্রশাসক জানান, “প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকবে, আনসার বাহিনী অপারেশনাল ডিভাইস ব্যবহার করছে, পুলিশের বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা কার্যকর থাকবে। কোনো ঘটনাই মনিটরিংয়ের বাইরে নয়। এবার দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ডেপ্লয়মেন্ট হয়েছে—আনসার, পুলিশ, সেনাবাহিনী, এয়ারফোর্সসহ সবাই যুক্ত। এটি কোনো খেলার বিষয় নয়।”
তিনি পুনরায় সতর্ক করে বলেন, “যদি কারও মধ্যে নেতিবাচক মানসিকতা থাকে, এখনই সরে যান, অন্যথায় পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। আমরা চাই না, আমাদের সন্তানরা বড় হয়ে দেশ ছেড়ে চলে যাক। এই দেশ আমাদেরই গড়ে তুলতে হবে।”
সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক বলেন, “নিরপেক্ষতার মাধ্যমেই আমাদের গায়ে লাগা সব কালিমা মুছে যাবে। ১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা আপনার মেধা ও যোগ্যতার পরীক্ষা দেবেন এবং রাষ্ট্রের পবিত্র আমানতের যোগ্য প্রমাণ দেবেন।”
বিশ্বের দৃষ্টি বাংলাদেশের দিকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, “বিশ্ব দেখছে বাংলাদেশ কি আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে পারবে কি না। আমরা সেই নির্বাচন উপহার দিয়ে ঘরে ফিরতে চাই। যেদিন নাগরিকরা হাসিমুখে ভোট দিয়ে ঘরে ফিরবে, সেদিন আমাদের সব কষ্ট সার্থক হবে। আমরা দেশকে জেতাতে পারব।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিরাজুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ বশির আহমেদ। এছাড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাবের প্রতিনিধি বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস. এম. রাহাতুল।
ব্রিফিং সভার পাশাপাশি নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা, দায়িত্ব বণ্টন, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় কার্যক্রম বিষয়ে একটি যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।