

খন্দকার জলিল, জেলা ব্যুরো প্রধান, পটুয়াখালী
পটুয়াখালীর গলাচিপায় ইলিশের পোনাসহ বিপুল পরিমাণ গুড়া মাছ জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গলাচিপা ফেরিঘাট এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন গলাচিপা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাইফুল ইসলাম সাইফ এবং উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ জহিরুন্নবী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, বদনাতলী ঘাট থেকে একটি পিক-আপে বিপুল পরিমাণ ছোট মাছ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে গলাচিপা ফেরিঘাট এলাকায় মোবাইল কোর্ট বসিয়ে অভিযান চালানো হয়।
এ সময় ইলিশের পোনাসহ ৩০ ব্যারেল গুড়া মাছ এবং একটি পিক-আপ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পিক-আপটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ন ১৯-০০৬৫ যার গায়ে ‘বন্ধু পরিবহন’ লেখা ছিল।
অভিযানকালে মাছের সঙ্গে থাকা দুইজন হলেন মো. মাহাবুব সিকদার (৪০) পিতা মৃত ইসাহাক সিকদার এবং মো. আবদুল্লাহ সিকদার (২৫) পিতা জাহাঙ্গীর সিকদার। উভয়ের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায়। তাদের মৎস্য আইনে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। তবে মাছগুলোর প্রকৃত মালিক এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পরবর্তীতে জব্দকৃত মাছ এতিমখানা, বিভিন্ন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও অসহায় সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। গুড়া মাছ আটকের খবরে এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে আনন্দমুখর পরিবেশ লক্ষ করা হয়।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম সাইফ বলেন,
“মাছগুলোর মালিক এখনও শনাক্ত করা যায়নি। মাছের সঙ্গে থাকা দুইজনকে জরিমানা করা হয়েছে। অবৈধভাবে ইলিশের পোনা নিধন রোধে নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুন্নবী জানান, নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত ঝাটকা ধরা নিষিদ্ধ। জব্দকৃত মাছের মধ্যে অধিকাংশ কাচকি ও দুই থেকে তিন ইঞ্চি আকারের ইলিশের পোনা রয়েছে। মোট ৩০টি ব্যারেলে আনুমানিক ৯০০ কেজি মাছ ছিল, যার বাজারমূল্য প্রায় দুই লক্ষ টাকা।
তিনি আরও জানান, চর মোন্তাজ, চর বাংলা ও ভোলার কিছু চর এলাকা থেকে এসব মাছ আসছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইলিশের পোনা রক্ষা ও নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।