খন্দকার জলিল-স্টাফ রিপোর্টার
পটুয়াখালীর গলাচিপায় নিখোঁজের চারদিন পর সোহেল প্যাদা (২৫) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে আমখোলা ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর হাওলাদারের বাড়ির পশ্চিম পাশে অবস্থিত পাঙ্গাসিয়া খালের কচুরিপানার ভেতরে তার লাশ পাওয়া যায়। নিহত সোহেল উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের বাঁশবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দেলোয়ার প্যাদা ও ঝুমুর বেগমের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট সোহেল তার স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যান। পরদিন (২৬ আগস্ট) একাই বাড়ি ফিরে আসেন। রাতে পিতার ঘরে খাবার খেয়ে নিজের বসতঘরে ঘুমাতে যান। বুধবার সকালে মা ঝুমুর বেগম ছেলেকে ডাকতে গিয়ে সামনের দরজা বন্ধ আর পিছনের দরজা খোলা দেখতে পান। এ সময় ঘরের ভেতরে পড়ে থাকা বাটন ফোন ভাঙ্গা এবং টাচ্ ফোন চার্জে বসানো দেখতে পেয়ে তিনি চিন্তিত হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সোহেলের স্ত্রী রুবিনা বেগম জানান সোমবার সে তার স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়ি বেড়াতে যান। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকালে সে একা বাড়িতে চলে আসেন। আমি বুধবার সকালে এসে তাকে দেখতে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করতে থাকি। এদিকে বুধবার থেকেই সোহেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা পাঙ্গাসিয়া খালের পাড়ে সোহেলের নিজের ঘরে থাকা মাছ ধরার পল্লা এবং অজানা একটি জালি ফ্যান ও কিছু বৈদ্যুতিক তার বস্তাবন্দি দেখতে পেয়ে খোঁজ শুরু করে। পরে কচুরিপানার মধ্যে তার লাশ ভেসে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন তারা। খবর পেয়ে গলাচিপা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে প্রেরণ করে। এ সংক্রান্তে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আশাদুর রহমান জানান, “সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ উদ্ধার করেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী প্রেরন করা হয়েছে। তবে রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। মৃত্যুর সঠিক কারন জানা গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোহেলের সঙ্গে এলাকার কিছু লোকের পূর্ব থেকে বিরোধ ছিল। তবে তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হঠাৎ সোহেলের মৃত্যুতে পরিবারসহ পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।