পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম সন্ধ্যায় পশ্চিমের আকাশে এক ফালি চাঁদের ঠিক নিচেই জ্বলজ্বল করছে শুকতারা। অর্থাৎ একেবারে পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে শুক্র গ্রহকে। রাতের আকাশে এত মন-মুগ্ধকর দৃশ্য খুব কমই দেখা যায়।
(২৪'শে মার্চ ২০২৩ইং) শুক্রবার রমজানের প্রথম সন্ধ্যায় কাস্তের মতো পাতলা এক চিলতে চাঁদ যেন আরও বেশি লালচে দেখাচ্ছে, দেখে মনে হচ্ছে আরবী হরফ (বা) মাত্র ৬% আলোকিত। চাঁদের ঠিক সামান্য নিচেই রুপালি-সোনালি রঙের শুক্র গ্রহ দেখা যাচ্ছে। দুই মহাজাগতিক বস্তু এদিন প্রায় ৬.৫ ডিগ্রির ব্যবধান রয়েছে। অনেকেই অজান্তে এদিন সন্ধ্যায় চাঁদের দিকে তাকিয়ে এই দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে যান। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ফটো তুলেও পোস্ট করতে শুরু করেন। সেই ছবি দেখে আরও বেশি মানুষ এই দৃশ্য চাক্ষুষ করেছেন।
কলকাতার পজিশনাল অফ অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারের বিজ্ঞানী দেবপ্রিয় রায় জানিয়েছেন, সোজা বাংলায় বলতে গেলে চাঁদের উপর দিয়ে শুক্র পার করে গিয়েছে। সেই বিষয়টি কলকাতা থেকে পরিলক্ষিত হয়নি। চাঁদের উপর দিয়ে শুক্র পেরিয়ে যাওয়ার পর কলকাতার আকাশ থেকে সেই দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়েছে, চাঁদের উত্তর দিকে শুক্র অবস্থান করছে।
আজ (২৫'শে মার্চ ২০২৩ইং) শনিবার থেকে অবশ্য এই অবস্থান কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে যাবে। চাঁদ সামান্য প্রশস্ত (১২%) হবে। অন্যদিকে শুক্রের আরও উপরে এবং সামান্য বা দিকে সরে যাবে। ফলে এতটা কাছাকাছি দেখার সুযোগ পাবেন না।
চাঁদ পৃথিবী থেকে ২,৩৩,৪০০ মাইল (৩,৭৫,৭০০ কিলোমিটার) দূরে অবস্থিত। অন্যদিকে শুক্রগ্রহ প্রায় ১১৫ মিলিয়ন মাইল (১৮৫ মিলিয়ন কিলোমিটার) দূরে অবস্থিত। যা কি না ৪৯২ গুণ বেশি। ম্লান সন্ধ্যার আলোয় প্রথম যে 'তারা'দের দেখা যায়, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শুকতারা। আসলে এটিই শুক্র গ্রহ। দ্য ওয়ালের প্রতিবেদনে দেওয়া সাক্ষাত্কারে কলকাতা অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারের অনুপম নস্কর জানালেন, ‘চাঁদ, পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে বলে, আমরা দেখি আকাশের গায়ে চাঁদ ক্রমশ পূর্বদিকে সরে যাচ্ছে। এই সরে যাওয়ার পথেই আজ চাঁদ আড়াল করে ফেলল শুক্রকে। আর যে জায়গা থেকে এই আড়ালের পথটা মিলে গিয়েছে সেখান থেকেই দেখা যাবে চাঁদের আড়াল বা Lunar Occultation।’
তিনি জানান, এদিন বিকেল ৪:৪৩ নাগাদ শুক্রকে চাঁদ ঢেকে দেয়। কিন্তু সেই সময় আকাশে সূর্যের উপস্থিতি থাকায় এই দৃশ্য দেখা যায়নি। তবে সন্ধেবেলা কলকাতার আকাশ পরিষ্কার থাকায় এই দৃশ্য দেখা গিয়েছে।