
এস এম জসিম | বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম
গত ২রা ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রোজ সোমবার চট্টগ্রামের সার্কিট হাউস মিলনায়তনে ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করি, সুস্থ সবল জীবন গড়ি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রামের উদ্যোগে ‘জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০২৬’ উদ্যাপন উপলক্ষে কুইজ প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, চট্টগ্রাম।
সভাপতিত্ব করেন জনাব মোঃ শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), চট্টগ্রাম।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সহকারী পুলিশ সুপার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, সহকারী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, সহকারী পরিচালক (জাতীয় ভোক্তা অধিকার-সংরক্ষণ অধিদপ্তর), কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং হোটেল ও রেস্তোরাঁর মালিক-ম্যানেজারবৃন্দ।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার জনাব মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম, এবং সঞ্চালনা করেন জনাব ফারজানা রহমান মীম, সহকারী কমিশনার (এনজিও সেল) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, চট্টগ্রাম।
উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে ক্যাব প্রতিনিধি জনাব সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, মৎস্য, প্রাণি ও কৃষিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় সাধন করে উৎস থেকে ভোক্তা পর্যন্ত খাদ্য নিরাপদতা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। চট্টগ্রাম জেলায় নামে-বেনামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খাবার পানি সরবরাহ করছে, যা কতটুকু নিরাপদ তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহ বিষয়গুলো নজরদারির মধ্যে রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জনাব আপ্রু মারমা বলেন, কৃষি বিভাগ টেকসই, নিরাপদ ও লাভজনক খাদ্য উৎপাদনে অঙ্গীকারবদ্ধ। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জৈব বালাইনাশক ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও পর্যাপ্ত জৈব বালাইনাশক বিক্রয় বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।
প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য নিরাপদ খাদ্যের বিকল্প নেই। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও খাদ্য নিরাপত্তা—বিশেষত ভেজাল ও দূষণমুক্ত খাদ্য—নিশ্চিত করা এখনো একটি চ্যালেঞ্জ। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার সত্ত্বেও মানবিক গুণাবলীর ক্ষেত্রে আমরা অনেক পিছিয়ে। অধিক মুনাফার জন্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ না জাগ্রত হলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা কঠিন। শুধুমাত্র আইনানুগ ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়; জনগণকেও সচেতন হতে হবে। দায়িত্বশীল দপ্তরসমূহ চেষ্টা করছে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব।”
সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি মোঃ শরীফ উদ্দিন বলেন, “নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা কোনো একক সরকারি দপ্তর বা ব্যক্তির একার পক্ষে সম্ভব নয়। সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা জাগ্রত হলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হবে এবং সুস্থ সবল জাতি গড়ে উঠবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রত্যেককে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য লিফলেট, পোস্টার, বুকলেটের পাশাপাশি একটি করে পরিবেশবান্ধব সুন্দরী বৃক্ষ প্রদান করা হয়। কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কারের পাশাপাশি সুন্দরী ও নিম বৃক্ষ বিতরণ করা হয়।
সভায় উপস্থিত সবাই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।