
সাতক্ষীরা থেকে আজহারুল ইসলাম সাদী:
মসজিদে জুম্মার নামাজরত অবস্থায় সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে ২৯ সেকেন্ড এর সমম এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪। গুগলের অ্যান্ড্রয়েড আর্থকুয়েক অ্যালার্ট সিস্টেমের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪.৯।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল খুলনা জেলা শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং সাতক্ষীরা থেকে ১৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৫ কিলোমিটার।
গুগলের অ্যান্ড্রয়েড আর্থকুয়েক অ্যালার্ট সিস্টেমের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল আশাশুনি উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরত্বে।
রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা এবং পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কিছু এলাকাতেও (যেমন বারাসাত) এই ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে।
সাতক্ষীরার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, দুপুর ১টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিকটার স্কেলে যার মাত্রা ৫ দশমিক ৪। আর এর উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়ার কালিবাড়ী নামক স্থানে।
সাতক্ষীরার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানেও ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। দেশে এর আগে, গত বুধবার রাতেও ৫ দশমিক ১ মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়, যার উৎপত্তিস্থল ছিল মায়ানমারে। এটিও ছিল মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প।
ভূমিকম্প অনূভব করেছেন এমন একজন সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া মধ্য পাড়ার তাছলিমা খাতুন, তিনি জানান নামাজ পড়ছিলাম হঠাৎ ঘরের মেঝেতে কাঁপুনি শুরু হলো পাশাপাশি বিকট শব্দে ঘরের টিনের চাল কয়েকবার নড়ে উঠলো!
আমি দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে পাশ্ববর্তী পুকুরে গিয়ে পানির ঢেউ দেখে নিশ্চিত হ ই ভূমিকম্প হয়েছে।
এমন ভূমিকম্পের প্রথম অনূভব করলাম।
এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে যা জানা গেছে তা হলো,
সাতক্ষীরা সদরের ঝাউডাঙ্গা বাজারের মন্দিরের এক অংশের পাঁচিল ভেঙে গেছে, সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার নগরঘাটা গ্ৰামের একটি টালি ছাউনী ঘরের টালি ভেঙে পড়েছে, কয়েকটি মসজিদের ছাদে ফাটল ধরেছে।