
শারমিন আরা
ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি,
ঝিনাইদহে বীমা পলিসির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও গ্রাহকদের প্রাপ্য টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ঝিনাইদহ শাখার বিরুদ্ধে।
বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের টাকা ফেরত না পাওয়ায় ভুক্তভোগী গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
অভিযোগকারী গ্রাহকদের দাবি, নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করে তারা নির্ধারিত মেয়াদে বীমা পলিসি সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রাপ্য অর্থ পাওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেছে,
এখনো টাকা হাতে পাননি অনেকেই।
ফলে নিজেদের জমাকৃত অর্থ ফেরত পেতে শাখা অফিসে বারবার যোগাযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান না পাওয়ার অভিযোগ করছেন তারা।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ঝিনাইদহে প্রায় ৩ হাজার গ্রাহকের টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগের কথা উঠে আসে। ওই প্রতিবেদনে এক গ্রাহক জানান, তিনি ২০১২ সালে মাসিক ৫০০ টাকা কিস্তিতে ১০ বছর মেয়াদি পলিসি করেছিলেন।
২০২২ সালে মেয়াদ শেষ হলেও দীর্ঘ সময় পরেও টাকা ফেরত পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গ্রাহকদের অভিযোগ, অনেকে স্বল্প আয়ের মানুষ। সংসারের খরচ সামলে ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য বছরের পর বছর কিস্তি দিয়েছেন।
কেউ কেউ মেয়াদ শেষে সেই টাকা দিয়ে চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা, ব্যবসা কিংবা পারিবারিক প্রয়োজন মেটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে টাকা না পাওয়ায় তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
এদিকে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের নিজস্ব ওয়েবসাইটে বিভিন্ন বীমা পরিকল্পের ক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তিতে গ্রাহককে চুক্তি অনুযায়ী সুবিধা দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
দেশের বিভিন্ন স্থানেও প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকদের মেয়াদপূর্তির পর টাকা না পাওয়ার অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও এক গ্রাহক দীর্ঘ সময় ধরে তা পাননি।
এমন পরিস্থিতিতে ঝিনাইদহের গ্রাহকদের প্রশ্ন—মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কেন তাদের কষ্টার্জিত টাকা আটকে থাকবে? তারা দ্রুত বীমার পাওনা অর্থ পরিশোধ এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে ঘিরে দেশব্যাপী আর্থিক সংকট ও গ্রাহকদের বীমা দাবি পরিশোধে বিলম্বের বিষয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন টাকা আটকে রেখে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে “প্রতারণার শিকার” বলে দাবি করছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, দ্রুত তাদের বীমা দাবির টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে এবং যারা গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।