
নিজস্ব প্রতিবেদক :- বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C.)–এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খান সেলিম রহমান বলেছেন, “সাংবাদিকতা কোনো পেশা মাত্র নয়—এটি একটি সামাজিক অঙ্গীকার, যেখানে সত্য, ন্যায় ও জনস্বার্থ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়।” বর্তমান প্রেক্ষাপটে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের শক্ত ভিত গড়ে তুলতে সাংবাদিকদের পেশাগত সততা, নিরপেক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধে অবিচল থাকতে হবে।
তিনি বলেন, সমাজ, রাষ্ট্র ও মানুষের জীবনের প্রতিটি স্তরে সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সংবাদ সংগ্রহ থেকে শুরু করে জনমত গঠন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই সাংবাদিকদের সিদ্ধান্ত ও আচরণ সরাসরি জনস্বার্থকে প্রভাবিত করে। তাই দায়িত্বশীলতা ও নৈতিকতার সঙ্গে কাজ করাই একজন সাংবাদিকের প্রকৃত পরিচয়।
খান সেলিম রহমান বলেন, সংবাদ সংগ্রহই সাংবাদিকতার ভিত্তি। সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও সংস্কৃতিসহ সব ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুসন্ধান ও সংগ্রহের মাধ্যমে সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরাই সাংবাদিকের প্রথম দায়িত্ব। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের সময় সতর্কতা, সংবেদনশীলতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, সত্য যাচাই ও নিরপেক্ষতা ছাড়া সাংবাদিকতা মূল্যহীন। প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা যাচাই করে কোনো ধরনের পক্ষপাত ছাড়াই বস্তুনিষ্ঠভাবে সংবাদ উপস্থাপন করাই পেশাগত মানদণ্ড। গুজব, অনুমান কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচার সমাজকে বিভ্রান্ত করে এবং গণমাধ্যমের প্রতি আস্থার সংকট সৃষ্টি করে—যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সংবাদ লেখা ও প্রচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময়োপযোগী, নির্ভুল ও মানসম্মত সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে জনগণের কাছে সত্য পৌঁছে দেওয়া সাংবাদিকদের দায়িত্ব। ভাষা হতে হবে স্পষ্ট, তথ্য হতে হবে যাচাইকৃত এবং উপস্থাপন হতে হবে ভারসাম্যপূর্ণ—এতেই পেশাদারিত্বের পরিচয় ফুটে ওঠে।
খান সেলিম রহমানের মতে, জনস্বার্থ রক্ষা সাংবাদিকতার অন্যতম মৌলিক লক্ষ্য। দুর্নীতি, অনিয়ম, অন্যায় ও অবিচার তুলে ধরে সাধারণ মানুষের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় সাংবাদিকদের নির্ভীক ভূমিকা পালন করতে হবে। ক্ষমতার অপব্যবহার, বৈষম্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কলম ধরাই গণমাধ্যমের নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি বলেন, জনমত গঠনে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক ও প্রাসঙ্গিক তথ্যের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করা হলে তারা যুক্তিসঙ্গত ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়। বিভ্রান্তিকর তথ্য নয়, বরং তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যাই সমাজকে আলোকিত করে।
রাষ্ট্র ও সমাজে জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি রেখে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করাই গণমাধ্যমের অন্যতম শক্তি। এই নজরদারি কোনো প্রতিহিংসা নয়—বরং ন্যায় ও সুশাসনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান।
তিনি আরও বলেন, সংকট ও দুর্যোগকালীন সময়ে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা মানবিকতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্ঘটনা ও জরুরি পরিস্থিতিতে গুজব পরিহার করে সঠিক, দ্রুত ও জীবনরক্ষাকারী তথ্য পৌঁছে দেওয়া অপরিহার্য। এমন সময়ে দায়িত্বহীন শিরোনাম কিংবা ভুল তথ্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
নৈতিকতা ও পেশাগত সততা প্রসঙ্গে খান সেলিম রহমান বলেন, সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করে দায়িত্বশীল, মানবিক ও নৈতিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থ, প্রলোভন কিংবা কোনো ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করলে পেশার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়। সত্যের পক্ষে থাকা কঠিন হলেও সেটিই সাংবাদিকতার সৌন্দর্য।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সাংবাদিকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। ভুয়া সংবাদ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে। যাচাইহীন তথ্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করাই বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
সবশেষে তিনি বলেন, অসহায় ও প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর হওয়াই সাংবাদিকতার মহান দায়িত্ব। সমাজের অবহেলিত, নিপীড়িত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা তুলে ধরে তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমকে সোচ্চার থাকতে হবে। ক্ষমতাহীন মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সাংবাদিকতার মানবিক পরিচয়।
বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C.) বিশ্বাস করে, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক সমাজ গঠনের প্রধান চালিকাশক্তি। সত্যের প্রতি অবিচল থেকে, জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবং নৈতিকতার আলোকে কাজ করলেই সাংবাদিকতা তার প্রকৃত মর্যাদা অর্জন করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সকল সচেতন পাঠক ও পেশাজীবীর।