দুর্গাপুর (রাজশাহী)প্রতিনিধি মোঃ ইসমাইল হোসেন নবী
ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষার প্রবেশপত্র নেওয়ার উদ্দেশ্যে কলেজে যাবার জন্য বাড়ি থেকে বের হোন মারুফা আক্তার (২২)। এরপর আর বাড়ি ফিরেননি। এমনকি আত্মীয়স্বজনদের বাসায় সন্ধান করেও খোঁজ মেলেনি তার। এ ঘটনায় চরম উদ্বিগ্ন পরিবারের লোকজন।
নিখোঁজ হওয়ার ২২ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও তার কোনো সন্ধান না মেলায় মারুফা আক্তারের স্বামী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার ৭ নং জয়নগর ইউনিয়নের নোনামাটিয়াল গ্রামে। ওই গ্রামের এনামুল হক সুমনের স্ত্রী নিখোঁজ মারুফা আক্তার।
মারুফা আক্তারের স্বামী এনামুল হক সুমন জানান, গত ১৬ জুন দুপুর ১২টার দিকে তার স্ত্রী মারুফা আক্তার কলেজে গিয়ে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষার প্রবেশপত্র নেয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হোন। এরপর আর ফিরে আসেননি। আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে সকল জায়গায় খোঁজাখুঁজি পরেও কোনো সন্ধান না পেয়ে পরদিন ১৭ জুন দুর্গাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
এনামুল হক সুমন অভিযোগ করেন, থানায় জিডি করলেও পুলিশ এখনো কোনরূপ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এমনকি ভিকটিমকে উদ্ধারের জন্যও কোনো সহায়তা করেননি। পুলিশের এমন বৈরী আচরণে আমরা হতাশ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আমি থানায় জিডি করেছি, কিন্তু পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। আমার স্ত্রী বেঁচে আছে না মরে গেছে তাও জানি না। নাম-পরিচয় গোপন করে আমাকে জনৈক এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে জানান, চা-মিষ্টি খাওয়া বাবদ ৫/১০ হাজার টাকা পুলিশকে দেয়া হলে আমার স্ত্রীকে পুলিশ খুঁজে বের করে দিবে।
নিখোঁজ গৃহবধূর পিতা মামুনুর রশীদ জানান, জয়নগর ইউনিয়ন বিট পুলিশের ইনচার্জ এসআই রেজাউল করিম দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছেন না। তাই আমার মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছিনা। তিনি সহযোগিতা করলে এতোদিনে আমার মেয়েকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হতো।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দুরুল হোদা বলেন, প্রাথমিকভাবে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পেরেছি প্রেমের সম্পর্কের কারণে মেয়েটি অন্য আরেক ছেলের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে যেহেতু অভিযোগ এসেছে সেহেতু ভিকটিমকে খুঁজে বের করে পরিবারের কাছে ফেরানোর জন্য আমরা প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।