
খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান পটুয়াখালী:
পটুয়াখালীর গলাচিপায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সহায়-সম্বল হারিয়ে আজ পথের ভিখারি এক অসহায় রিকশাচালক।
বুধবার (১৩ মে) দিবাগত রাত ৯টার দিকে আমখোলা ইউনিয়নের বাউরিয়া গ্রামের বউবাজার এলাকায় ঘটে যাওয়া এই বিধ্বংসী আগুনের লেলিহান শিখা নিমিষেই কেড়ে নিয়েছে রিকশাচালক চান মিয়া মোল্লার (৫৫) তিল তিল করে গড়া বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন। প্রতিদিনের মতো চান মিয়া যখন জীবিকার তাগিদে রিকশা নিয়ে বাইরে আর তার স্ত্রী মাহিনুর বেগম পাশের বাড়ির এক অনুষ্ঠানে, ঠিক তখনই জনশূন্য ঘরটিতে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের তীব্রতা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়রা ছুটে এসে নেভানোর চেষ্টা করার আগেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় টিন ও কাঠের তৈরি সাজানো ঘরটি। তিন মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পর বৃদ্ধ দম্পতি জীবনের সবটুকু সঞ্চয় ঢেলে এই আশ্রয়টুকু তৈরি করেছিলেন, কিন্তু আগুনের নিষ্ঠুরতায় আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় মালামালসহ আজ সবই কেবল পোড়া কয়লার স্তূপ।
আমখোলা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নারায়ণ আক্ষেপ করে জানান, পরিবারটি এখন খোলা আকাশের নিচে অতি মানবেতর জীবন যাপন করছে এবং তাদের কয়েক লাখ টাকার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হলেও সব হারিয়ে রিকশাচালক চান মিয়া ও তার স্ত্রীর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার বাতাস।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি আবেদন করলে সরকারিভাবে দ্রুত তাদের সহায়তা প্রদান করা হবে।
এক জীবনের ঘাম ঝরানো শ্রমে গড়া ঘরটি হারিয়ে চান মিয়ার শূন্য দৃষ্টি এখন কেবলই এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে আছে।