
মোঃ মেরাজুল ইসলাম, রংপুরঃ
রংপুর জেলার গংগাচড়া উপজেলার তিস্তা নদীতীরবর্তী আলালের চর, ছালাফাক ও গাউছিয়া বাজার এলাকার কৃষকেরা নিম্নমানের কুমড়ার বীজ বপন করে চরম বিপাকে পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, পার্টেক্স কোম্পানির সরবরাহ করা বীজ নকল ও নিম্নমানের হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যায়নি।
কৃষকদের দাবি, চলতি মৌসুমে তারা প্রতি কেজি বীজ প্রায় ১৫ হাজার টাকা দরে কিনে চাষাবাদ শুরু করেন। মোট প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বীজ ক্রয় করা হয়। জমি বর্গা, চাষ, সেচ, সার ও পরিচর্যার খরচ মিলিয়ে বিনিয়োগ দাঁড়ায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা। কিন্তু বীজের মান খারাপ হওয়ায় অনেক জমিতে গাছ ঠিকমতো বেড়ে ওঠেনি, আবার কোথাও ফলন এলেও তা বাজারজাত করার মতো হয়নি।
তিস্তা চরের একাধিক কৃষক জানান, ধারদেনা করে ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তারা কুমড়া চাষে বিনিয়োগ করেছিলেন। এখন ফলন বিপর্যয়ের কারণে তারা পথে বসার উপক্রম। অনেকেই আসন্ন মৌসুমে জমি চাষে নামতে পারবেন কি না, তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা অবিলম্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বীজের মান যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কৃষি অধিদপ্তরের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে কুমড়া চাষ বহু কৃষকের প্রধান আয়ের উৎস। তাই নিম্নমানের বীজ সরবরাহের অভিযোগে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকা জুড়ে।