
এস এম জসিম, বিশেষ প্রতিনিধি:-
নির্বাচনী দায়িত্ব দেশপ্রেমের পরীক্ষা উল্লেখ করে অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
তিনি বলেছেন, ‘কোনো অপরাধী যেন অপরাধ করে পার না পায়—এটি নিশ্চিত করা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে রোববার (২৫ জানুয়ারি) মীরসরাই কলেজ হলরুমে মীরসরাই উপজেলার ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে, অপরাধীরাও অপরাধ করার চেষ্টা করতে পারে। তবে অপরাধ যে করবে, সে যেন অপরাধ করে পার না পায়—এটাই আমার প্রত্যাশা। আমরা যেন কোনোভাবেই অপরাধীদের সে সুযোগ না দিই।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সন্তানদের রক্তের ঋণ আমরা নিরপেক্ষভাবে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে পরিশোধ করব। সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে—আমাদের এই কর্মযজ্ঞ আবার আগের মতো কালিমালিপ্ত হবে কি না।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের বক্তব্য উদ্ধৃত করে জেলা প্রশাসক জানান, এবারের নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের বডি ক্যামেরা থাকবে। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা যে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, তার সুফল আসবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।
উপস্থিত অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, আমাদের এলাকায় যে অপরাধ করবে, সে যেন অপরাধ করে পার না পায়—এ বিষয়ে আমাদের সবার দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া থাকতে হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, আমাদের ওপর যে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে। যদি কারও কোনো আতঙ্ক, ভয় কিংবা সমস্যা থাকে, তা জানাতে হবে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, উপস্থিত কারও মধ্যেই সে ধরনের ভয় বা আতঙ্ক নেই।
এ সময় তিনি উপস্থিত সবার কাছে জানতে চান, কারও মধ্যে কোনো ভয় বা আতঙ্ক আছে কি না। জবাবে সবাই একযোগে জানান, তাদের মধ্যে কোনো ভয় বা আতঙ্ক নেই।
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নিরপেক্ষতা প্রমাণ করা সম্ভব কি না—এ প্রশ্নের জবাবে উপস্থিত কর্মকর্তারা জেলা প্রশাসককে আশ্বস্ত করে বলেন, তারা নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। জাতির কাছে পূর্বের যে কলঙ্ক রয়েছে, তা ঘুচিয়ে দেওয়ার বিষয়েও সবাই অঙ্গীকার করেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, আপনারা যে অঙ্গীকার করেছেন, আমি আশা করি তা রাখবেন। আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি বহির্বিশ্বে তুলে ধরতে চাই। আজ আমাদের সামনে যে সুযোগ এসেছে, তা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা পূরণের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের রূপরেখা প্রণয়ন করতে চাই। আমাদের নিজ নিজ ভূমিকা পালনের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চাই—আমরাও পারি।
সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, ‘নির্বাচনী দায়িত্ব সবার জন্য দেশপ্রেমের একটি জ্বলন্ত পরীক্ষা। আমরা সবাই এই পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছি, কারণ দেশের মানুষ প্রত্যাশা করে—তারা যেন নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সারা জীবন রাষ্ট্র থেকে নানা সুযোগ-সুবিধা পেয়েছি। এবার রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের মানুষের আশা-প্রত্যাশা পূরণের একটি বড় সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে, যা নিষ্ঠা, সততা ও সাহসের সঙ্গে পালন করতে হবে।’
প্রিজাইডিং অফিসারদের সতর্ক করে জেলা প্রশাসক বলেন, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কারও আচরণ বা কর্তব্য যেন কোনোভাবেই কালিমালিপ্ত না হয়। তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে সব ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি ও বডিওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক এবং সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সিরাজুল ইসলাম, মীরসরাই আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার রেজাউল করিম রিজভী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলাউদ্দিন কাদের, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মোহাম্মদ নাদিম হায়দার চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার।
উল্লেখ্য, মীরসরাই উপজেলার ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে ১১৮ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৭৩৬ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ৫০৮ জন পোলিং অফিসারকে নির্বাচনসংক্রান্ত আইন, বিধি-বিধান, দায়িত্ব ও আচরণবিধি বিষয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।