
মোঃ রাকিব শেখ:-
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন পর্যবেক্ষক কার্ড ও গাড়ির স্টিকার বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ থাকা সত্ত্বেও অনেক পেশাদার পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী কার্ড পাচ্ছেন না। বিপরীতে, ‘বিশেষ পরিচয়’ ও প্রভাবশালী মহলের তদবিরে অনেকে সহজেই কার্ড ও স্টিকার সংগ্রহ করছেন।
যোগ্যদের ভোগান্তি, অযোগ্যদের দাপট;
মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনেক অভিজ্ঞ পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র ও প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র জমা দিলেও বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়ে কার্ড পাননি। অভিযোগ রয়েছে, নানা অজুহাতে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
একজন ভুক্তভোগী পর্যবেক্ষক বলেন, “সব নিয়ম মেনে আবেদন করেছি, তবুও কার্ড পাচ্ছি না। অথচ যাদের কোনো বৈধ কাগজ নেই, তারা শুধু ‘ভাইয়ের’ পরিচয়ে কার্ড ও স্টিকার নিয়ে যাচ্ছে।”
অনুমোদনহীন স্টিকারে প্রশ্ন;
আরও অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনেক ব্যক্তিগত গাড়িতে ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষক’ বা ‘জরুরি নির্বাচন কাজে নিয়োজিত’ স্টিকার ব্যবহার করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রভাবশালীদের তদবিরে এসব স্টিকার বিতরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে, যা প্রকৃত পর্যবেক্ষকদের কাজে বাধা সৃষ্টি করছে।
সংশ্লিষ্টদের অবস্থান;
সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করলেও নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মচারী স্বীকার করেন, “উপর মহলের চাপের কারণে অনেক সময় নিয়ম শিথিল করতে হয়।”
বিশ্লেষকদের শঙ্কা;
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃত পর্যবেক্ষকদের বাদ দিয়ে অপেশাদার বা দলীয় ব্যক্তিদের কার্ড দেওয়া হলে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ অবস্থায় ভুক্তভোগীরা দ্রুত নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ ও একটি স্বচ্ছ তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।