
ইব্রাহিম খলিল, পাবনা জেলা প্রতিনিধি:
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। উপজেলার দেবোত্তর ইউনিয়নের কয়ড়াবাড়ি সূতার বিল, একদন্ত ইউনিয়নের ডেঙ্গার গ্রাম এবং লক্ষ্মীপুর এলাকায় এবার ব্যাপক আকারে পেঁয়াজ বীজের আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে এই চাষাবাদ হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, অনুকূল আবহাওয়া ও মাটির উপযোগিতার কারণে প্রতি বিঘায় গড়ে ৩ থেকে ৪ মণ পর্যন্ত বীজ উৎপাদন হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে পেঁয়াজ বীজের চাহিদা থাকায় প্রতি মণ ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে অন্যান্য ফসলের তুলনায় এ আবাদে লাভের সম্ভাবনা বেশি হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
এ অঞ্চলে মূলত দুটি জাতের পেঁয়াজ বীজ চাষ করা হচ্ছে—তাহেরপুরি ও বারি পেঁয়াজ-১। কৃষকদের মতে, তাহেরপুরি জাতের বীজের ফলন ও মান ভালো। অন্যদিকে বারি পেঁয়াজ-১ জাতটি রোগসহনশীল হওয়ায় ঝুঁকি তুলনামূলক কম।
আটঘরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা মোতমাইন্না বলেন, “পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে আটঘরিয়ার মাটি ও আবহাওয়া অত্যন্ত উপযোগী। সঠিক সময়ে রোপণ, সুষম সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই দমনে সচেতনতা বজায় রাখলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া সম্ভব। কৃষি বিভাগ নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে।”
তিনি আরও জানান, কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, যাতে উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে অধিক লাভ নিশ্চিত করা যায়। ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের পরিসর আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা আশা করছেন, বাজারমূল্য স্থিতিশীল থাকলে এবং সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলে পেঁয়াজ বীজ চাষ আটঘরিয়ার কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশীয় চাহিদা পূরণে মানসম্মত বীজ উৎপাদন বাড়লে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং কৃষকরা আরও স্বাবলম্বী হবেন।