খন্দকার জলিল জেলা ব্যুরো প্রধান, পটুয়াখালী
ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে শেষ কথাগুলো যে এমন ভয়ংকর পরিণতির দিকে ঠেলে দেবে, তা কেউ ভাবেনি। প্রেমিকের সঙ্গে ফোনে কথা কাটাকাটির পর গভীর অভিমানে পটুয়াখালীর পায়রা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক কলেজ ছাত্রী।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) বিকেল প্রায় ৪টার দিকে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পায়রা সেতু এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। ওই কলেজ ছাত্রীর নাম তানজিলা। তিনি বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেতুর ওপর কিছুক্ষন দাড়িয়ে ছিলেন তানজিলা। ফোন কেটে দেওয়ার পর চোখের পলকে তিনি নদীতে ঝাঁপ দেন। মুহূর্তের মধ্যেই চারদিকে চিৎকার ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দৌড়ে এসে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন।
খবর পেয়ে লেবুখালী সেনানিবাসের সেনা সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছান। তাদের সহায়তায় জেলেদের নৌকা নামানো হয় নদীতে। অচেতন অবস্থায় তানজিলাকে উদ্ধার করে প্রথমে লেবুখালীর ইসলামিয়া হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, তানজিলার বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নে। তার প্রেমিক একই এলাকার বাসিন্দা সজিব হোসেন। যিনি বর্তমানে রংপুর সেনানিবাসে কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাদের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। সেই মানসিক যন্ত্রনাই তাকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে বলে দাবি পরিবারের।
আরও জানা গেছে, নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার আগেই তানজিলা ঘুমের ওষুধ সেবন করেছিলেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছেন। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে তার জন্য উৎকণ্ঠায় পরিবার-স্বজনরা।
দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। শিক্ষার্থীর পরিবারকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
একটি মুহূর্তের অভিমান যে কত বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, তানজিলার এই ঘটনা যেন তারই নির্মম প্রমাণ। ভালোবাসা যেখানে বাঁচার শক্তি হওয়ার কথা, সেখানে তা হয়ে উঠল একটি তরুণ জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার মুহূর্ত।