
আ. মান্নান টিপু স্টাফ রিপোর্টার:-
ফরিদগঞ্জ উপজেলা-এ আট বছর বয়সী শিশু রুবেল হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে স্থানীয় জনগণ। ঘটনার ১৮ দিন পার হলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।
শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) বিকেলে উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়ন-এর পাটওয়ারীর বাজার ও নিহত শিশুর বাড়ির সামনে পৃথকভাবে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিহত রুবেলের বাবা আব্দুল কাদের, মা পরান বেগম, স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু সাদেক, মো. ইব্রাহিম খান, মোশারফ হোসেন বতু, রহমত উল্লাহ তালুকদার, জাহাঙ্গীর খান ও তুহিন হাসান চৌধুরী।
বক্তারা বলেন, আট বছর বয়সী একটি শিশুর কোনো শত্রু থাকার কথা নয়। রুবেল স্থানীয় একটি নূরানি মাদ্রাসার বোর্ডিংয়ের শিক্ষার্থী ছিল। মাহে রমজান উপলক্ষে বাড়িতে এসে ১০ মার্চ তারাবির নামাজ পড়তে গিয়ে সে নৃশংস হত্যার শিকার হয়। কিন্তু এত দিনেও পুলিশ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। তারা অবিলম্বে হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ মার্চ ইফতারের পর তারাবির নামাজ পড়তে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় রুবেল। প্রায় চার ঘণ্টা পর বাড়ির পাশের একটি বাঁশঝাড়ের কাছ থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ১১ মার্চ সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর-এ পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানা-য় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহতের বাবা-মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমাদের নিষ্পাপ সন্তানকে কেন হত্যা করা হলো? আমরা খুনিদের বিচার চাই।”
এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অভিভাবকেরা সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন, এবং শিশুরা ভয়ে ভয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে।
ফরিদগঞ্জ থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, মামলা রুজু করে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। অপরাধীদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে এবং দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।