স্টাফ রিপোর্টারঃ মোঃ নেছার উদ্দিন বরগুনার তালতলী উপজেলার ৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ একমাত্র সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরে আছে। জানা যায়, বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলীর মানিকঝুড়ি থেকে শুরু করে তালতলীর ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়কটির অন্তত ২৪ কিলোমিটার জুড়ে অসংখ্য ডোবা ও বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে।প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে হাজারো মানুষ যাতায়াত করলেও সংস্কারের অভাবে তা এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও ছোট যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্ষা মৌসুমে খানাখন্দগুলোতে পানি জমে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা, ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়ে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও রোগী পরিবহনে সীমাহীন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। রাজনীতি বিপদের অভিমত বিএনপির আমতলী উপজেলা সম্মানিত সদস্য সচিব তুহিন মৃধা বলেন— “একটি অঞ্চলের প্রধান সড়ক যদি এভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকে, তাহলে এর প্রভাব পড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্য সবখানেই। বর্ষাকালে খানাখন্দে ভরা এ সড়ক কাদা ও পানিতে পরিণত হয়, শুকনো মৌসুমে ধুলোবালিতে মানুষ নাকাল হয়। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ যেমন কষ্ট পাচ্ছে, তেমনি আর্থসামাজিক উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারের উচিত দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সড়ক সংস্কার করা। জনগণের করের টাকায় গড়া রাস্তাগুলো জনগণের জন্য ব্যবহারযোগ্য রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তালতলীর এই ৩৮ কিলোমিটার সড়কটি মেরামত করা হলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে সুবিধা হবে এবং এলাকার উন্নয়নের গতি বাড়বে।” স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু বছর ধরে সড়কটির সংস্কারের হলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই তা আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি ও জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, “এই সড়ক দিয়ে মালপত্র আনা-নেওয়া করতে আমাদের অতিরিক্ত খরচ হয়। অনেক সময় পণ্য নষ্ট হয়ে যায়।” এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা পরিষদের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। তারা জানান, দ্রুত সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অবিলম্বে সড়কটি সংস্কার না করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।