মো:মিল্টন হোসেন
বিশেষ প্রতিনিধি ঝিনাইদহ:-
মেছো বিড়াল ২০২৬ উপলক্ষে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলায় পরিবেশ রক্ষা ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এক সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় মেছো বিড়ালের গুরুত্ব তুলে ধরা হয় এবং ভুল ধারণা থেকে এই প্রাণীটিকে হত্যা না করার বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপর জোর দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে শৈলকুপা উপজেলার মৌবন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষার বার্তা নিয়ে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বিদ্যালয়ে এসে শেষ হয়। র্যালিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বন বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে মৌবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ দিদারুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শৈলকুপা উপজেলার ফরেস্ট অফিসার মোঃ মোখলেসুর রহমান, শৈলকুপা স’মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খোঃ মঈনুল হোসেন এলিট।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে মৌবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকবৃন্দ, বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এবং উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে মোঃ ইসরাইল মন্ডল, দীপু বিশ্বাস ও আরাফাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঝিনাইদহ জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন বলেন, “মেছো বিড়ালকে অনেক সময় মানুষ ভুল করে বাঘ বা হিংস্র প্রাণী মনে করে হত্যা করে থাকে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। মেছো বিড়াল পরিবেশের জন্য উপকারী একটি বন্যপ্রাণী। এটি জলাশয় ও প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।” তিনি মেছো বিড়াল সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি এই প্রাণী সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, পরিবেশ ধ্বংস ও জলাভূমি কমে যাওয়ার কারণে মেছো বিড়ালের আবাসস্থল হুমকির মুখে পড়ছে। ফলে এ প্রাণীটি আজ নানা ঝুঁকির সম্মুখীন। মেছো বিড়াল সংরক্ষণ শুধু একটি প্রাণীকে বাঁচানো নয়, বরং পুরো পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
পরিবেশকর্মীরাও বক্তব্যে মেছো বিড়ালকে বাঘ বা হিংস্র প্রাণী ভেবে হত্যা না করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা বন বিভাগ ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেছো বিড়াল ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আলোচনা ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেওয়া হয়। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, যাতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সামাজিক সচেতনতা আরও জোরদার হয়।