
মোঃ আতাউর রহমান মুকুল, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের প্রভাবিত করতে পরিকল্পিতভাবে কালো টাকা ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমান। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের খামার মনিরাম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় তিনি এসব অভিযোগ করেন। সভায় জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক মাজেদুর রহমান বলেন, ‘এই নির্বাচনে ভোটারদের দুইভাবে কেনার চেষ্টা করা হচ্ছে। একটি পক্ষ কর্মী বানানোর নাম করে সাধারণ মানুষের হাতে নগদ টাকা তুলে দিচ্ছে, যাতে তারা নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে। অপর একটি পক্ষ সরাসরি ভোট কেনার উদ্দেশ্যে কালো টাকা বিতরণ করছে। এসব অপতৎপরতার মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সুন্দরগঞ্জের মানুষ এখন অনেক সচেতন। টাকা বা প্রলোভন দেখিয়ে এখানকার ভোটারদের সিদ্ধান্ত বদলানো যাবে না। দাঁড়িপাল্লার পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, কোনো অপশক্তি তা রুখতে পারবে না।’
কালো টাকা ছড়ানোর অভিযোগ প্রসঙ্গে জামায়াত প্রার্থী জানান, বিষয়টি মৌখিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি যে নির্বাচনী এলাকায় অবাধে কালো টাকা বিতরণ হচ্ছে। এখন প্রশাসন কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে, সেটিই দেখার বিষয়।’
এ বিষয়ে কোন প্রার্থী বা পক্ষ জড়িত—এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক মাজেদুর রহমান বলেন, ‘আমরা নির্দিষ্ট করে কারও নাম উল্লেখ করতে চাই না। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি, একাধিক প্রার্থী তাদের কর্মী-সমর্থকদের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নগদ অর্থ পৌঁছে দিচ্ছেন। এমনকি ডিজিটাল মাধ্যমেও অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।’
তিনি অবৈধ অর্থ বিতরণের মাধ্যমে ভোটারদের বিভ্রান্তি রোধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সকল মহলের দায়িত্বশীল ভূমিকার দাবি করেন।
পথসভায় বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘টাকা, ভয়ভীতি কিংবা প্রলোভনের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করা হলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা চাই ভোটাররা স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুক।’
সভায় উপস্থিত জামায়াতে ইসলামীর অন্যান্য নেতারাও কালো টাকা ছড়ানোর অভিযোগ তুলে বলেন, একটি মহল অবৈধ অর্থ ব্যবহার করে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তারা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।