মো. জিয়াউদ্দিন | জেলা বিশেষ প্রতিনিধি (ভোলা)
ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের চতলা তুলারডগি ও চতলা সাতধরুন এলাকায় উচ্চ ফলনশীল সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনায় কৃষকদের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফলন হবে বলে আশা করছেন চাষিরা। সরিষা বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশায় তাদের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস।
দিগন্তজোড়া হলুদ সরিষা ফুলে ছেয়ে গেছে বিস্তীর্ণ মাঠ। মাঘের হিমেল হাওয়ায় দোল খাওয়া সরিষাক্ষেত আর মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে এক অপূর্ব সৌন্দর্যের। বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকের মনে যেমন আনন্দ, তেমনি এসব সরিষাক্ষেত এখন দর্শনার্থীদেরও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
প্রতিদিন বিকেলে চতলা সাতধরুন ও তুলারডগি বিল এলাকার সরিষাক্ষেতে ভিড় করছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিশু-কিশোর ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। কেউ ফুল তুলছে, কেউ ছবি তুলছে, আবার কেউ প্রকৃতির সান্নিধ্যে এসে নির্মল আনন্দ উপভোগ করছে। মহাজন বাড়ির খামারসংলগ্ন এলাকা, আলহাজ আব্দুর রশিদ মেম্বারের নতুন বাড়ির আশপাশ এবং হাজী মমতাজ মিয়ার বড়দাড়ি এলাকাজুড়ে সরিষার হলুদ সমারোহ দেখতে প্রতিদিনই মানুষের সমাগম ঘটছে।
স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনুকূল আবহাওয়া এবং তীব্র শীতের কারণে এখন পর্যন্ত ক্ষেতে পোকার আক্রমণ দেখা যায়নি। ফলে ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেড়েছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের সরিষা চাষে কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। এসব জাতের সরিষা ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যেই ঘরে তোলা যায় এবং প্রতি হেক্টরে প্রায় দেড় হাজার কেজিরও বেশি ফলন পাওয়া সম্ভব।
কৃষকরা জানান, সরিষা কাটার পর একই জমিতে বোরো ধান বা অন্য ফসল আবাদ করা যায়, ফলে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং স্বল্প সময়েই লাভবান হওয়া সম্ভব। তবে সার ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকদের দাবি—সরকারিভাবে সরিষা ক্রয়, সহজলভ্য মূল্যে সার-বীজ-কীটনাশক সরবরাহ এবং কৃষি প্রণোদনা বাড়ানো হলে আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে। সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহের মাধ্যমেও অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও তারা মনে করেন।
কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. হোসেন জানান, কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি সার, বীজ ও কীটনাশক ব্যবহারে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হচ্ছে। ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ হাসান ওয়ারিসুল কবির বলেন, জেলার কয়েক হাজার কৃষককে প্রণোদনা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যা সরিষা উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাম্পার ফলনের আশায় ভোলার সরিষাক্ষেতে এখন প্রকৃতি ও কৃষকের আনন্দ মিলেমিশে একাকার। হলুদ ফুলের সমারোহে গ্রামবাংলার এ দৃশ্য যেন নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে কৃষি অর্থনীতিতে।