রাজু মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলার মনপুরা উপজেলায় এক কথিত গ্রাম্য চিকিৎসকের অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসার অভিযোগে আলাউদ্দিন নামের এক দিনমজুরের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে উঠেছে। স্যালাইনের সঙ্গে একাধিক ইনজেকশন প্রয়োগের পর তাঁর অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। ঘটনাটি এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
আলাউদ্দিন মৃত আনা মিয়া চকিদারের ছেলে। তিনি মনপুরা উপজেলার ৩ নম্বর উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। দিনমজুর হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা এই পরিবারের পক্ষে ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে আলাউদ্দিন হঠাৎ করে একাধিকবার বমি করতে শুরু করেন। অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা আনন্দ বাজার এলাকার ফার্মেসি ব্যবসায়ী ও কথিত গ্রাম্য চিকিৎসক কাশেম ডাক্তারকে ফোন করেন।
পরিবারের অভিযোগ, কাশেম ডাক্তার বাড়িতে এসে রোগীকে স্যালাইন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। স্যালাইন না দেওয়ার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হলেও তা উপেক্ষা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্যালাইনের সঙ্গে পাঁচটি ইনজেকশন মিশিয়ে প্রয়োগ করা হয় এবং একাধিক ওষুধ খাওয়ানো হয়।
চিকিৎসা দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আলাউদ্দিনের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। বিষয়টি জানাতে পুনরায় কাশেম ডাক্তারকে ফোন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরে স্বজনরা আলাউদ্দিনকে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানান, ভুল চিকিৎসার কারণেই রোগীর এ জটিল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত অন্যত্র রেফার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে চরম আর্থিক সংকটের কারণে প্রায় ১৮ ঘণ্টা পার হলেও রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে নেওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
এ ঘটনায় আলাউদ্দিনের পরিবার সংশ্লিষ্ট গ্রাম্য চিকিৎসক ও ফার্মেসির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, ভুল চিকিৎসার কারণে একজন অসহায় মানুষ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে কাশেম ডাক্তার বলেন, রোগীর পরিবার আমাকে ফোন করে বমি ও পেটব্যথার কথা জানায়। আমি গিয়ে ওষুধ, স্যালাইন ও ইনজেকশন দিয়েছি। পরে আবার ফোন করলে আমি তাদের হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।
এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কবির সোহেল বলেন, কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া এভাবে ইনজেকশন দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অনৈতিক। রোগীর অবস্থা স্বাভাবিক হলে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।