
মোঃ শাকিল খান রাজু সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:-
ভোলার মনপুরায় স্থানীয়লোকজনের সহায়তায় আলাউদ্দিন শিকদার (৪৭) নামের এক ভূয়া চিকিৎসককে আটক করা হয়েছে।
বুধবার রাতে উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের একটি বাসা থেকে রোগী দেখা অবস্থায় তাকে হাতেনাতে আটক করে মনপুরা থানায় হস্তান্তর করা হয়।
প্রেসক্রিপশন সূত্রে জানা যায়, আলাউদ্দিন শিকদার নিজেকে এমবিবিএস চিকিৎসক এবং মেডিসিন, চর্ম ও যৌন রোগের বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রোগী দেখে আসছিলেন। রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে তিনি বিভিন্ন ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করলেও চিকিৎসকদের সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-এর কোনো নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করতেন না। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি নিবন্ধন সংক্রান্ত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে মনপুরা নৌবাহিনী ও সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া অবস্থায় ভূয়া চিকিৎসক আলাউদ্দিন শিকদারকে আটক করা হয়। পরে মনপুরা থানায় বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি ঢাকার একজন চিকিৎসকের ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে রোগী দেখে আসছিলেন। আটককৃত আলাউদ্দিন শিকদার চরফ্যাশন উপজেলার উত্তর মাদ্রাজ ইউনিয়নের মৃত কয়ছরের ছেলে। তিনি গত দুই বছর ধরে চর-মোজাম্মেল, মনপুরা ও চরকলাতলি এলাকায় চেম্বার খুলে ২০ হাজার থেকে এক থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত কন্টাক্টে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার নামে অর্থ হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. কবির সোহেল বলেন, ভুয়া চিকিৎসকের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষদের সচেতন থাকা জরুরি। ভূয়া চিকিৎসকেরা স্বাস্থ্য সেবাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা (সেকেন্ড অফিসার) এসআই নয়ন জানান, রাতে ফোন কলের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভূয়া চিকিৎসক আলাউদ্দিন শিকদারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।