
নিজস্ব প্রতিবেদক: রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের চকপাড়া জামে মসজিদের ভেতরে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে জামায়াতে ইসলামীর দলীয় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মসজিদের পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সাধারণ মুসল্লিরা এ ঘটনার কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন।
ঘটনাটি গত ২৩ জুন মাগরিবের নামাজের পর ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মসজিদের ভেতরে চেয়ার-টেবিল নিয়ে প্রবেশ করে সেখানে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ওই সভা থেকেই ইমাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে মনোহর বাদশার নাম ঘোষণা করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর আসাদুজ্জামান শিমুল। এ সময় জামায়াতের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
মসজিদের ভেতরে দলীয় সভার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। নেটিজেনদের অনেকেই মসজিদকে ‘পার্টি অফিস’ হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী বিষয়টিকে ‘ইসলামের নামে ভণ্ডামি’ বলে মন্তব্য করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা নয়ন বলেন, “মসজিদের আদব লঙ্ঘন করে দলীয় কর্মসূচি পালন করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এলাকাবাসী এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছে।”
হুলাশুগঞ্জ জামিয়া কুরআনিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি মাসুদুর রহমান কাসেমী বলেন, “রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সাধারণত সমালোচনা বা গীবতের মতো বিষয় চলে আসে, যা মসজিদের পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এছাড়া চেয়ার-টেবিল বসিয়ে সভা করায় মসজিদের সৌন্দর্য ও ভাবগাম্ভীর্য ক্ষুণ্ন হয়েছে, যা মসজিদের আদবের পরিপন্থী।”
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আসাদুজ্জামান শিমুল বলেন, “আমরা সাধারণত মসজিদভিত্তিক বিভিন্ন প্রোগ্রাম করলেও এ ধরনের আয়োজন সচরাচর করি না। মসজিদটি গ্রামাঞ্চলে অবস্থিত এবং ওই সময় লোকসমাগম কম থাকায় সেটি ব্যবহার করা হয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “ইসলামের দৃষ্টিতে মসজিদ একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও পরামর্শমূলক কেন্দ্র হলেও মানুষ বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নেয়নি। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা আমিও দেখেছি। সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে সাধারণ মানুষ এটি ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। তাই ভবিষ্যতে আমরা এ বিষয়ে আরও সতর্ক থাকব।”