
মোঃ মনিরুজ্জামান সিনিয়র রিপোর্টার ঝিনাইদাহ।
ঝিনাইদহের মহেশপুরে অসৎ উদ্দেশ্যে ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলপূর্বক চাঁদা দাবি, আদায় এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দায়েরকৃত চাঞ্চল্যকর মামলায় দুই মূল আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৩ জুলাই) মহেশপুর থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছে।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, মহেশপুর থানাধীন দত্তনগর বাজারের ‘মায়ের দোয়া ফার্মেসী’র মালিক ও মামলার বাদী মোঃ নুর নবী (৩১)-এর দোকান থেকে অভিযুক্ত মোঃ ফিরোজ ও তার স্ত্রী মোছাঃ তানিয়া খাতুন ঔষধ বাবদ ১,৫২৫ টাকা বাকি রাখেন। গত ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দুপুর ১টার দিকে পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে বাদী আসামি ফিরোজের খালিশপুরস্থ ভাড়া বাসায় যান। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা ১নং আসামি মোঃ মাহবুবুর রহমান (৩০), ২নং আসামি মিজানুর রহমান ছোট (৩৫) এবং ৩নং আসামি মো. ফিরোজ (৪৫) পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাদী ও ৪নং আসামিকে একসঙ্গে দাঁড়ানো অবস্থায় গোপনে মোবাইলে ভিডিও ও ছবি ধারণ করেন।
পরবর্তীতে ঘরের দরজা বন্ধ করে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁসের ভয় দেখিয়ে বাদীর কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। মান-সম্মান ও জীবনের ভয়ে বাদী তাৎক্ষণিকভাবে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে মোট ৭০,০০০ টাকা দিয়ে তখনকার মতো নিস্তার পান। কিন্তু এখানেই শেষ নয়; পরবর্তীতে ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে ১নং আসামি মাহবুবুর রহমান পুনরায় ফোন করে ওই আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আরও টাকা দাবি করেন। ভয়ে বাদী বিকাশের মাধ্যমে আরও ২,০২৭ টাকা পাঠান। এ পর্যন্ত আসামিরা মোট ৭২,০২৭ টাকা চাঁদা আদায় করে এবং বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ১নং আসামি মোঃ মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে মাদকের মামলা ও চাঁদাবাজির একাধিক অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। এছাড়া ২নং আসামি মিজানুর রহমান ছোটর বিরুদ্ধেও ইতিপূর্বে চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোঃ নুর নবী বাদী হয়ে মহেশপুর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করলে ২২ জুলাই মহেশপুর থানায় পেনাল কোডের ৩৮৫/৩৮৬/৫০৬(২) ধারায় মামলা (নং-২৭) রুজু করা হয়। মামলাটির তদন্তের ভার অর্পণ করা হয় সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মোঃ আলমগীর হোসেনের ওপর।
মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, মামলা রুজু হওয়ার পরপরই থানা পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় আসামিদের মধ্যে ৩ জনকে শনাক্ত ও এর মধ্যে ২ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার অপর আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।