
মো:মিল্টন আলী
স্টাফ রিপোর্টার ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার মেদিনীপুর সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় সিরাপ ও দুটি বাইসাইকেল উদ্ধার করেছে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)। তবে বিজিবির অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
সোমবার (৩ আগস্ট) ভোরের পর সকাল আনুমানিক ৬টা ২০ মিনিটের দিকে মেদিনীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, মেদিনীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ৬৩/৫-এস থেকে প্রায় ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মেদিনীপুর গ্রামের আব্বাস মিয়ার আমবাগান এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করা যায়। বিষয়টি নজরে আসার পর হাবিলদার মো. কাউসার হোসেনের নেতৃত্বে বিজিবির একটি টহল দল দ্রুত সেখানে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকারী বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা কৌশলে পালিয়ে যায়। এ সময় তারা সঙ্গে থাকা চোরাচালানের মালামাল ফেলে রেখে সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় দুটি বাইসাইকেল উদ্ধার করেন। একই সঙ্গে সেখানে পড়ে থাকা ৭২ বোতল ভারতীয় সিরাপও জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা সিরাপগুলো চোরাচালানের মাধ্যমে ভারত থেকে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল বলে ধারণা করছে বিজিবি।
স্থানীয়দের ধারণা, সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট ব্যবহার করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়ে আসছে। এসব পণ্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়ে থাকে। সীমান্তে বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার থাকায় চোরাকারবারিরা বিভিন্ন সময় কৌশল পরিবর্তন করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছে।
তবে বিজিবির পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান ও টহল অব্যাহত থাকায় চোরাচালানকারীদের অনেক সময় মালামাল ফেলে পালিয়ে যেতে হচ্ছে। সর্বশেষ মেদিনীপুর সীমান্তের এ অভিযানে দুটি বাইসাইকেল ও ৭২ বোতল ভারতীয় সিরাপ উদ্ধারের ঘটনা তারই ধারাবাহিকতা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্তে মাদক ও অবৈধ পণ্য চোরাচালান বন্ধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনক চলাচল ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় উদ্ধার করা ভারতীয় সিরাপ ও দুটি বাইসাইকেল জব্দ করে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া চোরাকারবারিদের শনাক্ত ও আটকের বিষয়েও বিজিবির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালানো হচ্ছে।