
মোঃ সুজন আহাম্মেদ, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
রাজশাহীতে সম্পদ গোপন ও জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এক পুলিশ কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন রাজশাহী কার্যালয়ে মামলার এজাহার দায়ের করেন। মামলায় গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মীর্জা মো. আব্দুস ছালাম (৫৭) এবং তার স্ত্রী শাহানা পারভীন (৪৮)কে আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শাহানা পারভীন ২০২৪ সালের আগস্টে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ২১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে তার নামে ৯৫ লাখ ১৬ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি প্রায় ৭৩ লাখ ৪২ হাজার টাকার সম্পদ গোপন করে মিথ্যা তথ্য প্রদান করেছেন।
তদন্তে আরও বলা হয়, শাহানা পারভীনের বৈধ আয় ৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা। অথচ পারিবারিক ব্যয়সহ মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার ৭৫০ টাকা। ফলে প্রায় ৯৫ লাখ ৬৬ হাজার ৭৫০ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে দুদকের দাবি।
অভিযোগ রয়েছে, এএসপি মীর্জা মো. আব্দুস ছালাম সরকারি পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ স্ত্রীর নামে সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করেছেন।
আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধি ১০৯ ধারায় মামলা করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এএসপি মীর্জা মো. আব্দুস ছালাম জানান, মামলার অভিযোগ সঠিক নয়। তার দাবি, তাদের বৈধ আয়ের উৎস রয়েছে এবং নিয়মিত কর প্রদান করা হয়েছে। উল্লেখিত সম্পদ তার স্ত্রীর পারিবারিক সম্পত্তি।
এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।