
মোঃ জিয়াউদ্দিন
জেলা বিশেষ প্রতিনিধি (ভোলা)
সূর্য যেদিকে, ফুল সেদিকে—এ কারণেই এ ফুলের নাম সূর্যমুখী। সবসময় সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) কৃষি ও প্রাণিসম্পদ ইউনিটের সহযোগিতায় গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সূর্যমুখীর বীজ ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। এতে ভোলার লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের করিমগঞ্জ এলাকায় সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন হয়েছে।
লালমোহনে প্রথমবারের মতো জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন বাউরিয়া গ্রামের কৃষক নাজিম ও বিশ্বনাথ দাস। তাদের জমিতে ফুলের বাম্পার ফলন হয়েছে। সূর্যমুখী ফুলের এমন অপূর্ব সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ দূর-দূরান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক প্রকৃতিপ্রেমী পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ছুটে আসছেন।
একদিকে যেমন আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি পতিত জমি কাজে লাগিয়ে লাভের আশা করছেন কৃষকরা। সূর্যমুখীর বীজ থেকে উৎপাদিত তেলে লিনোলিক অ্যাসিড থাকে, যা হৃদ্রোগের জন্য ভালো। সূর্যমুখী তেলের উৎপাদন বাড়লে মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত তেল পাবে এবং চাষিরাও লাভবান হবেন।
‘কম খরচে বেশি লাভের সুযোগ’ থাকায় ওই এলাকার আরও অনেক কৃষক সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। রবি ফসলের মধ্যে সূর্যমুখী অন্যতম। তিন মাসের মধ্যেই প্রতিটি গাছে ফুল ফুটে বাগানগুলো অপরূপ সৌন্দর্য ধারণ করেছে। মনোমুগ্ধকর এ দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন প্রকৃতিপ্রেমীরা পরিবার নিয়ে বাগানে আসছেন।
বাগান দেখতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, ফেসবুকে সূর্যমুখী ফুলের চাষের খবর দেখে পরিবার নিয়ে এখানে এসেছেন। এসে তাদের খুব ভালো লাগছে।
সূর্যমুখীর ফলনে সন্তুষ্ট হয়ে কৃষক মোঃ নাজিম ও বিশ্বনাথ দাস বলেন, পল্লীকর্ম-সহায়ক বাসা ফাউন্ডেশনের অনুপ্রেরণায় এ অঞ্চলে সূর্যমুখী চাষ শুরু করেছি। তারা আমাদের বিনামূল্যে বীজ, সার ও ওষুধ দিয়েছেন। ফলনও ভালো হয়েছে। আবহাওয়া ও বাজার ভালো থাকলে অনেক লাভ হবে। আমাদের দেখে আরও কৃষক সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হয়েছেন। ভবিষ্যতে বৃহৎ পরিসরে চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাসা ফাউন্ডেশনের কৃষি কর্মকর্তা বলেন, সূর্যমুখী তেল স্বাস্থ্যসম্মত এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে উপকারী। তেল ফসল প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনীর জন্য কৃষকদের বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফলনও খুব ভালো হয়েছে। প্রকল্পটি সফল হলে আগামী বছর আরও ব্যাপক আকারে সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সূর্যমুখী থেকে তেল এবং মৌমাছি থেকে মধু—দুটোই লাভজনক। আমাদের ভোজ্যতেলের বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। দেশে সূর্যমুখী চাষ সফল হলে দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও তেল রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
মাঠ পরিদর্শনে আসেন বাসা এনজিওর নির্বাহী পরিচালক ডা. নাজমা ইসলাম। তিনি প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে উপহারসামগ্রী বিতরণ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনজিওর জিএম, এজিএম, শিক্ষা সুপার, এসডিও, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং উপজেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।