
মোঃ জিয়াউদ্দিন
বিশেষ প্রতিবেদক, ভোলা
ভোলা-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম) বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে দেড় থেকে দুই হাজার মানুষ নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। ঢাকার রাজপথের পাশাপাশি লালমোহনেও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে লালমোহনের ১২ জন নিহত হলেও তাঁদের কেউই ছাত্র ছিলেন না।
তিনি বলেন, নিহত সবাই ছিলেন শ্রমিক, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, অটোরিকশাচালকসহ বিভিন্ন পেশার সাধারণ মানুষ। এভাবে আমরা প্রায় ১৬ বছর একটি গুপ্ত সরকারের কবলে বন্দি ছিলাম। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে মাদক থাকবে না, অন্যায়-অবিচার ও দুর্নীতির কোনো স্থান থাকবে না। সবাই মিলে একটি সুখী, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে ভোলার লালমোহন উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের দ্বীপশিখা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মেজর হাফিজ আরও বলেন, আমাদেরকে জামায়াতে ইসলামী থেকে ইসলাম শিখতে হবে না। দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিলে বেহেশতে যাবেন—এমন কথা ইসলামে কোথাও নেই। শেখ হাসিনার বিরোধিতা করায় অনেক মানুষকে আয়না ঘরসহ বিভিন্ন কারাগারে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, লালমোহন ও তজুমদ্দিনে কাউকে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, অতীতের সবকিছু ভুলে যেতে হবে। গত ১৭ বছর ধরে মানুষ ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেনি। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে পুলিশ দিয়ে আমার বাসা ঘিরে রেখে আগের রাতে আওয়ামী লীগ ব্যালট বাক্স ভরে রেখেছিল।
চরভূতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইলিয়াছ কালাম সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম)-এর একমাত্র কন্যা শ্যামামা শাহরিন হাফিজ। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুলসহ বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আগামী ১২ তারিখ সবাইকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।