মো. মিল্টন হোসেন
বিশেষ প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার নিত্যানন্দনপুর ইউনিয়নের আশুরহাট পুকুরপাড় ও ফিরাগাতি বাজার সংলগ্ন এলাকায় ভেজাল খেজুরের গুড় তৈরির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভেজাল গুড় জব্দ করা হয়েছে। তবে অভিযান পরিচালনার খবর পেয়ে মূল হোতাসহ ভেজাল কারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা ভেজাল গুড় তৈরির আস্তানা থেকে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর চুন, সিমেন্ট ও বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে তৈরি করা বিপুল পরিমাণ ভেজাল খেজুরের গুড় উদ্ধার করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে উদ্ধার করা গুড় কোনোভাবেই মানবদেহের জন্য নিরাপদ নয়। এসব ভেজাল গুড় স্থানীয় বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন হাট-বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছিল, যা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই আশুরহাট পুকুরপাড় ও ফিরাগাতি বাজারের পাশে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রাতের আঁধারে ভেজাল গুড় তৈরি করে আসছিল। গুড়ের রং ও ঘনত্ব আকর্ষণীয় করতে তারা চুন, সিমেন্টসহ ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করত। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি।
অভিযান পরিচালনাকারী ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা এই অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানের খবর পেয়ে মূল হোতারা পালিয়ে গেলেও বিপুল পরিমাণ ভেজাল গুড় জব্দ করা হয়েছে। এসব গুড় জনসম্মুখে ধ্বংস করা হবে। ভেজালকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
উপজেলা প্রশাসন আরও জানায়, ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে সাধারণ জনগণকে সচেতন থাকার এবং ভেজাল খাদ্য সম্পর্কে তথ্য পেলে প্রশাসনকে জানাতে অনুরোধ করা হয়।
এদিকে এই অভিযানে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তারা দ্রুত পলাতক ভেজাল কারবারিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।