আলমগীর হোসেন সাগর
স্টাফ রিপোর্টার :
গাজীপুর শ্রীপুরের মাওনা উড়ালসেতুর দক্ষিণ প্রান্তে তাকওয়া পরিবহনের একটি মিনিবাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আড়াই বছরের এক শিশুসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলটি আসপাডা মোড় থেকে মাওনা চৌরাস্তার দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে মাওনা চৌরাস্তা ছেড়ে আসা তাকওয়া পরিবহনের একটি মিনি বাস উড়ালসেতুর দক্ষিণ প্রান্তে পৌঁছে মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে মোটরসাইকেলে থাকা তিনজন সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
আহতরা হলেন- মোটরসাইকেল চালক রোমান (৪০), তার ১৫ বছর বয়সি ছেলে পরশ এবং আড়াই বছরের শিশুপুত্র রায়হান। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য, চালকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রোমান কাপাসিয়া উপজেলার সিংহশ্রী ইউনিয়নের বরবেদ এলাকার আলাউদ্দিনের ছেলে। তিনি শ্রীপুরের আসপাডা এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে একটি সিরামিকস কারখানায় চাকরি করতেন। সকালে দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বাজারে যাচ্ছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, তাকওয়া পরিবহনের বাসগুলো দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের জৈনা বাজার থেকে গাজীপুর পর্যন্ত এলাকায় নিয়ম মানা ছাড়াই চলাচল করছে। অনুমোদিত স্টপেজ ছাড়াই যাত্রী ওঠানামা, অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া চালানোর কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, বিশেষ করে ফ্লাইওভার ও ব্যস্ত মোড়গুলোতে এসব বাসের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলে পথচারী ও ছোট যানবাহনের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।
মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান বলেন, তাকওয়া পরিবহনের বাসটি মাওনা থেকে গাজীপুরের দিকে যাচ্ছিল এবং মোটরসাইকেলটি মাওনা বাজারের দিকে আসছিল। মাওনা ফ্লাইওভারের দক্ষিণ প্রান্তে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা তিনজন গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর বাসচালককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর কিছু সময় মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।