
মোঃ শফিকুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার :—
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
দীর্ঘ ২০ বছর পর দলের চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ৪৯ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে নতুন সরকার ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। এ প্রেক্ষাপটে সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) পদে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অ্যাডভোকেট মীনা বেগম মিনি। বর্তমানে তিনি হাইকোর্টে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল-এর কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন।
মীনা বেগম মিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে অর্জিত দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সংসদে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকার—আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা—বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চান। তিনি প্রধানমন্ত্রীর হাতকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কৃতি সন্তান মীনা বেগম মিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে অনার্সে ভর্তি হয়ে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহ-ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকায় এসে Prime University থেকে এলএলবি (অনার্স) ও এলএলএম (মাস্টার্স অব ল’) ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১২ সালে ঢাকা জজ কোর্টে আইনজীবী হিসেবে এনরোলমেন্ট লাভ করেন এবং ২০১৭ সালে হাইকোর্টে এনরোল হন। আইন পেশায় তিনি দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। নিজ জন্মস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মসজিদ নির্মাণে সহযোগিতা, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের চলাচলের জন্য সাদা লাঠি বিতরণ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর নিয়মিত সহায়তাসহ বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগে তিনি সম্পৃক্ত রয়েছেন।
রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামেও তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তিনি একাধিক মামলার আসামি হন এবং কারাবরণও করেন।
মীনা বেগম মিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, নারীর ক্ষমতায়ন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সংসদে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমি দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চাই।”
সংরক্ষিত নারী আসনে তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে দলীয় মহলে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা, পেশাগত দক্ষতা ও সামাজিক কার্যক্রম—সব মিলিয়ে তিনি এ আসনের জন্য একজন শক্ত প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন।