
খন্দকার জলিল, জেলা ব্যুরো প্রধান, পটুয়াখালী
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা প্রেসক্লাবের আয়োজনে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরপুর বার্ষিক ভ্রমণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভাপতি ডাক্তার মো. হাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মো. হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে প্রায় ২০ জন বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিক এতে অংশ নেন।
রবিবার সকাল ৮টায় গলাচিপা হরিদেবপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ভ্রমণকারী দল রওনা হয় দেশের অন্যতম নৈসর্গিক পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত–এর উদ্দেশ্যে। সাগরকন্যা কুয়াকাটায় পৌঁছে শুরু হয় প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগের পালা।
সাংবাদিকরা ঘুরে দেখেন রাখাইন সম্প্রদায়ের পল্লী; তাঁত যন্ত্রে কাপড় বোনার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য সবাইকে মুগ্ধ করে। বিকেলে সমুদ্র সৈকতে ঢেউয়ের গর্জন, লাল কাঁকড়ার ছোটাছুটি আর ঝাউবনের স্নিগ্ধ ছায়ায় কাটে দারুণ সময়। সূর্য যখন ধীরে ধীরে দিগন্তে লাল আভা ছড়িয়ে সাগরে ডুবে যায়, তখন সেই সূর্যাস্তের দৃশ্য যেন ভ্রমণের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে ওঠে।
এ সময় দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চল থেকে আগত পর্যটকদের উপস্থিতিতে কুয়াকাটা পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। সাগরপাড় জুড়ে ছিল ভ্রমণপিপাসু মানুষের হাসি, আনন্দ আর উচ্ছ্বাস—যেন এক উৎসবমুখর পরিবেশ। শিশুদের দৌড়ঝাঁপ, তরুণদের ছবি তোলা আর পরিবারগুলোর আনন্দঘন মুহূর্ত পুরো পরিবেশকে আরও প্রাণচঞ্চল করে তোলে। এই মিলনমেলা ভ্রমণকে দিয়েছে নতুন মাত্রা ও ভিন্ন স্বাদ।
রাখাইন মার্কেটে প্রিয়জনদের জন্য শাড়ি, ঝিনুকের মালা, বার্মিজ আচার ও চকলেট কেনাকাটায়ও ছিল আনন্দঘন ব্যস্ততা।
কুয়াকাটার সাগরপাড়ে রাত্রিযাপন ভ্রমণে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা—রাতের সমুদ্রের শান্ত গর্জন আর শীতল বাতাস সবার মনে রেখে যায় প্রশান্তির ছোঁয়া।
পরদিন সোমবার সকাল ১১টায় সাংবাদিকরা পায়রা সমুদ্র বন্দরের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করেন। আধুনিক অবকাঠামো ও ব্যস্ত নৌচলাচলের চিত্র সবার নজর কাড়ে। সবশেষে বিকেলে হাসি-আনন্দে ভরা স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে দলটি গলাচিপায় ফিরে আসে।
এই বার্ষিক ভ্রমণ শুধু বিনোদনই নয়, পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পেশাগত বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছে বলে জানান অংশগ্রহণকারীরা। সাগর, সূর্যাস্ত, আর মিলনমেলার উচ্ছ্বাসে গলাচিপা উপজেলা প্রেসক্লাবের এবারের আয়োজন হয়ে থাকবে দীর্ঘদিন স্মরণীয়।