
তুর্যয়ের প্রতিবেদন:
সাভারে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল দেশ টিভি ও এস এ টিভির রিপোর্টারসহ গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর মিরপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর সনি স্কয়ারের সামনে ‘মিরপুরে বসবাসরত সচেতন সাংবাদিক সমাজ’-এর ব্যানারে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী, সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ এবং সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা প্রেসক্লাব ও আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাবের সভাপতি আরঙ্গজেব কামাল, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার সম্পাদক খান সেলিম রহমান, দৈনিক খবর বাংলাদেশ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক জাকির হোসেন মোল্লা, সাংবাদিক নেতা আজিজুল হাকিম, মিরপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ শফিকুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান সোহাগ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, দপ্তর সম্পাদক ফয়জুল্লাহ স্বাধীন, সিনিয়র রিপোর্টার এনামুল হক ইমন, রিপোর্টার লালন, আফজাল হোসেন আকাশ, এস এম আর শহীদ, ৭১ টিভির রিপোর্টার মাজেদুল সবুজ, সাংবাদিক রনি, সাংবাদিক মনা, সাংবাদিক সুমন, সাংবাদিক নেতা মারুফ হায়দার, সিনিয়র সাংবাদিক মনিরুজ্জামান মনি, সাংবাদিক লিমন, সাংবাদিক সেলিম মোল্লাসহ মিরপুরে বসবাসরত বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যারা সমাজের অপরাধ, মাদক ও দুর্নীতির চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরেন, তাদের ওপর হামলা মানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।”
বক্তারা আরও বলেন, “সাভারের মতো ব্যস্ত এলাকায় প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা প্রমাণ করে অপরাধীরা কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতার না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।”
ঢাকা প্রেসক্লাব ও আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাবের সভাপতি আরঙ্গজেব কামাল বলেন, “সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। হামলাকারীরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় সারাদেশের সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।”
বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের সভাপতি খান সেলিম রহমান বলেন, “মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা কখনো সফল হবে না।”
সাংবাদিক নেতা আজিজুল হাকিম বলেন, “আজ সাংবাদিকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কলম ধরলেই হামলার শিকার হতে হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে স্বাধীন সাংবাদিকতা হুমকির মুখে পড়বে।”
সাংবাদিক নেতা মারুফ হায়দার বলেন, “গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা মানে দেশের গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার ওপর আঘাত। অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
সিনিয়র সাংবাদিক মনিরুজ্জামান মনি বলেন, “মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানোর অপচেষ্টা চলছে। কিন্তু সাংবাদিক সমাজ কোনো হুমকির কাছে মাথা নত করবে না।”
মানববন্ধন থেকে বক্তারা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো—
১. আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
২. সাভার ও মিরপুরের মাদক স্পটগুলোতে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
৩. মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে দেশব্যাপী সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।