
জাহাঙ্গীর আলম রাজু সিনিয়র রিপোর্টার সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যার প্রথম বার্ষিকীতে তার হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দ্রুত বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গাজীপুর চৌরাস্তায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ প্রেসক্লাব গাজীপুর জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন। মানববন্ধনে সাংবাদিকরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন এবং তুহিন হত্যার বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রেসক্লাব গাজীপুর জেলা সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন সরকার, সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খন্দকার, গাজীপুর মহানগর সভাপতি ইয়াছিন গাজী, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল বারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল খালেক, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাসান, আইটি বিষয়ক সম্পাদক মো. ফারুক আহমেদ, গাজীপুর সদর থানা সভাপতি এম. সিরাজুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ আরাফাত খন্দকার, কালিয়াকৈর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক পলাশ চন্দ্রসহ বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন, সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে পরিকল্পিতভাবে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে হত্যা করেছে। দীর্ঘ এক বছর অতিবাহিত হলেও এ হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন না হওয়ায় সাংবাদিক সমাজ গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে। তারা বলেন, এই মামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, “সাংবাদিকদের ওপর হামলা মানে সত্য ও স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর হামলা। একজন সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে স্বাধীন সাংবাদিকতা চরম হুমকির মুখে পড়বে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে রাষ্ট্রকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।” তারা বলেন, “যে সমাজে সাংবাদিক নিরাপদ নয়, সে সমাজে সাধারণ মানুষও নিরাপদ থাকতে পারে না। তাই সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং হয়রানিমূলক মামলা, হামলা ও নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।” সমাবেশে বক্তারা আরও দাবি জানান, তুহিন হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে একটি বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা গঠন, মামলার অগ্রগতি নিয়মিত প্রকাশ এবং সাক্ষীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা-নির্যাতনের ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োগেরও আহ্বান জানান তারা। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সাংবাদিক হত্যার বিচারহীনতার সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে দেশজুড়ে স্বাধীন সাংবাদিকতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা কোনো হত্যাকাণ্ডের বিচারহীনতা মেনে নেব না। প্রয়োজনে সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।” মানববন্ধন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকরা সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং নিহত সাংবাদিকের রুহের মাগফিরাত কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।