মোঃ আতাউর রহমান মুকুল
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, গাইবান্ধা
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে মামলার বাদী মো. জামিল মিয়াকে বিবাদীগণ একাধিক চাঁদাবাজীর মামলায় জড়িয়ে হয়রানি এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সামনে এসেছে জামিল মিয়ার শনিবার সকালে সুন্দরগঞ্জ মডেল প্রেসক্লাবে আয়োজন করা সংবাদ সম্মেলনে।
জামিল মিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এবং ভাগি শরি মোছা ছাবিরন বেগম, মো. আব্দুল গফুর মিয়া ও মো. আল-আমিন মিয়ার মধ্যে জমি–জমা নিয়ে বিরোধ চলমান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচটি মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষ গত এক মাস ধরে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রকাশ্য এবং লোক মারফত তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজীর মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জামিল মিয়া জানান, তার দাদা ১৯৪৬ সালে ১৩৭৭২ নম্বর কবুলিয়ত অনুযায়ী ১০৭ শতক জমির হকদার ছিলেন এবং দীর্ঘদিন তা ভোগদখল করে আসছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিবাদীগণ মিথ্যা মামলা তৈরি করে একতরফা ডিগ্রী নিয়ে কিছু জমি জবর দখল করেছে। সেই ডিগ্রীর বিরুদ্ধে আপিল প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। চাঁদাবাজীর এক মামলা পিআইবিতে এবং অন্যটি থানা পুলিশের তদারকিতে রয়েছে। তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, “আমি এসব হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকি থেকে নিরাপদ থাকতে চাই।”
অন্যদিকে, প্রতিপক্ষ মো. আব্দুল গফুর মিয়া জামিল মিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কোর্টের ডিগ্রী ও বৈধ কাগজপত্র অনুযায়ী আমি জমি ব্যবহার করে আসছি। চাঁদা চাওয়ার বিষয়টি সঠিক, তাই চাঁদাবাজীর মামলা করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
স্থানীয়রা বলছেন, জমি সংক্রান্ত এ ধরনের বিরোধ ন্যায়সঙ্গতভাবে সমাধান না হলে তা এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নজরে রাখছে বলে জানা গেছে।